“খাওয়া যদি রোগ হয়, তাহলে তো বলবে শ্বাস নেয়াটাও হয়তো কোন রোগ” গলায় একটা কৌতুক ভাব এনে পাশের ডেস্কে বসা আহসানকে উপহাস করলো রাজেন। তবে আহসান ব্যাপারটা গায়ে মাখলো না।  কারণ গত কয়দিন ধরে এই বিষয়ে ইন্টারনেটে বিস্তর লেখাপড়া করেছে সে। আর সত্যি বলতে প্রথমবার “অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস” শব্দটা পড়ে তারও ধারনা রাজেনের মতই হয়েছিলো। নিজের চেয়ারটা রাজেনের দিকে ফিরিয়ে আহসান বললো,

“ভাই, খাওয়া তো রোগ না। কিন্তু খাওয়া নিয়ে খাইখাই করা যেমন রোগ, কিচ্ছু খাবো না, কিচ্ছু খাবো না করাও সেই রোগের ভেতরেই পরে।“

এবার কৌতুক ভাব থেকে বের হয়ে এসে রাজেন চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকালো তার সমবয়সী বন্ধু এবং কলিগ আহসানের দিকে। আহসান বললো, “তাহলে শুনতে চাচ্ছো  অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসব্যাপারটা আসলে কি?” , জবাবে কিছু না বলে শুধু ঘাড় নেড়ে সায় দিলো রাজেন। আহসান সদ্য গবেষণা করা বিষয়টা নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারনা দিতে শুরু করলো রাজেন কে।

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস কী?

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস

হজ ভাবে বলতে গেলে একে খাওয়ার ব্যাধি বলা যায়। মানসিক ব্যাধির কাতারে পরা এই রোগ আক্তান্ত ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যখন কোনো ব্যক্তি তার দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের তুলনায় নিজের খাদ্যাভাস আর ওজন নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে, সেই সাথে এই ব্যাপারে অনেক বেশি সময় ব্যয় করে সেই অবস্থাকে অস্বাভাবিক খাদ্যাভাস বা Eating Disorder বলা যায়।

কথাগুলো বেশ স্পষ্ট ভাবে গুছিয়ে বলার পরও রাজেনের কাছে ব্যাপারটা পুরোপুরী পরিষ্কার হয় নি সেটা তার মুখের হাব ভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। তবে সে মনোযোগ দিয়ে শুনছে এটা বোঝা গেল। রাজেন বা আহসান কেউই খুব স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ বলা যাবে না। দুইজনেরই ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশিই হবে।

রাজেন বললো, “তাহলে খাওয়া দাওয়া নিয়ে চিন্তা করলেই রোগী হয়ে যেতে হবে নাকি? কোন প্রকারভেদ করা নেই এই রোগের? । আহসান এই প্রশ্নের উত্তর জানে তাই সে একেবারে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের মত ভাব করে বলা শুরু করলো,

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস
অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস এক মানসিক ব্যাধী

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস এর প্রকারভেদঃ

মূলত অস্বাভাবিক খাদ্যাভাস কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) এনোরেক্সিয়া নারভোসা (Anorexia Nervosa) – অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের এই ভাগে পরে সেই সব মানুষ যারা ক্ষুধামন্দায় ভোগেন, কিছু খেতে ইচ্ছা করে না।

(২) বুলিমিয়া নারভোসা (Bulimia Nervosa) – অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের ভাগে পরে সেই সব মানুষ যারা সাধারণত লুকিয়ে অনেক বেশি পরিমাণে খাবার খেয়ে থাকে। আবার পরবর্তীতে অতিরিক্ত ক্যালরি আর মেদ দূর করতে নানান কাজ করে যেমন – বমি করা, উপবাস বা অধিক ব্যায়াম।

(৩) বিঞ্জ ইটিং দিসর্ডার (Binge Eating Disorder) অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের এই ভাগে সেই ব্যক্তিরা পরেন যারা অত্যাধিক পরিমাণে খাবার খায়, কিন্তু ওজন বা মেদবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত থাকে না। যার ফলে তাদের গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে!

তবে এর বাইরেও কিছু ভাগ রয়েছে যেমন – Avoidant/Restrictive Food Intake Disorder, Other Specified Feeding or Eating Disorder, Unspecified Feeding or Eating Disorder এগুলো।

“কি বলছো! এখন তো শুনে তো মনে হচ্ছে আমারো এই রোগ হয়ে থাকতে পারে!” রাজেন বলে উঠলো। কিন্তু আহসান ঠিক বুঝতে পারলো না রাজেন কি ফাজলামি করে বলছে না সত্যি সে এই ব্যাপার নিয়ে চিন্তিত। আহসানের দিকে তাকিয়ে রাজেন বললো, “আজ দুপুরে খাবারের পর এই নিয়ে বসবো নে, বিষয়টা নিয়ে জানার আরো জানার আগ্রহ হচ্ছে। এখন হাতের কাজ গুলো করতে থাকি।“  আহসানো সে ব্যাপারে সম্মতি জানালো।

লাঞ্চের পর দুই কলিগ বসে আবার ইটিং ডিজঅর্ডার নিয়ে করা বলতে শুরু করলো। রাজেন প্রথমেই জানতে চাইলো, “আমার মাথায় কয়েকটা প্রশ্ন এসেছে এই ব্যাপারে যদি তোমার জানা থাকে বলো, আর না হয় ইন্টারনেট থেকে দেখে নিবো নে। আমার প্রথম প্রশ্ন হলো এই রোগের কারণ কি?”

আহসান আগেই এই ব্যাপারে পরেছিলো, তাই এ প্রশ্নের জবাব দিতে দেরী হলো না তার,

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের কারনসমূহঃ

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস (Eating disorder) ঠিক কি কারণে হয় সেই বিষয়ে একেবারে নিদিষ্ট কোন কারণ সঠিক জানা যায় না। মূলত কিছু মানসিক সমস্যার থেকে এ রোগ হতে পারে বলে ধারনা করা হয়। তারপরও এ রোগের কিছু সম্ভাব্য কারণ আমি পেয়েছি যেমন-

  • জিনগত কারণে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের এই রোগ হয়ে থাকতে পারে। জিনগত কারণে মা-বাবার থেকে সন্তানের মাঝে, ভাই-বোনদের মাঝে এই রোগ বিস্তার লাভ করতে পারে।
  • এছাড়াও মানুষের ব্রেনে সেরোটোনিন নামের এক রকমের রাসায়নিক তৈরি হয় (স্বাভাবিক উপায়েই মানুষের শরীরে উৎপন্ন হয়) যার কারণে খাদ্যাভাস প্রভাবিত হতে পারে।
  • বিভিন্ন রকমের মানসিক সমস্যা যেমন – আত্মবিশ্বাসের অভাব, খুঁতখুঁতে স্বভাব, অত্যাধিক আবেগপ্রবন হয়ে পড়া, সুসম্পর্কের অভাব ইত্যাদি কারণেও খাদ্যাভাসে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
  • মিডিয়া, বিজ্ঞাপন কিনবা ওয়েস্টার্ন কালচারের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই, বিশেষ করে তরুণীরা, অতিরিক্ত সৌন্দর্য সচেতন হয়ে পড়ে। যার ফলে তাদের মধ্যে অস্বাভিক খাদ্যাভাস দেখা দেয়ার সম্ভবনা থাকে।

এই উত্তরের সাথে মিল রেখেই পরের প্রশ্নটা করলো রাজেন, “তাহলে কি নারী-পুরুষ ভেদে এই রোগ হবার সম্ভবনা কম বেশি হয়? “ এই বিষয়েও কোথায় যেন পরেছিলো রাজেন।কিন্তু উত্তরটা দেয়ার আগে সে নিজের সামনে থাকা কম্পিউটারে একবার সার্চ করে উত্তরটা বের করে নিলো। তার দেয়া অনেকগুলো তথ্য সে জোগাড় করেছে বাংলাদেশী একটা ওয়েবসাইট থেকে।

এনজাইম নামের এই ওয়েবসাইটে শুধু যে অনেক অসুখের লক্ষন, কারণ, টিপস বলা আছে তাই নয়, এখান থেকে নিজের রোগ লক্ষন থেকে নির্নয়ের অটোম্যাটিক ব্যবস্থা, ডায়েট চার্ট তৈরি সেই সাথে ডাক্তার বা নিউট্রিশনিস্ট দেখানোর বেশ কিছু উপায় আছে।  উত্তরটা এনজাইমের সাইট থেকে দেখে নিয়ে রাজান কে জানালো আহসান,

পুরুষদের তুলনায় নারীদের মাঝে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে দেখা যায়। তবে তৃতীয় বিভাগ হিসেবে যেটা ছিলো, Binge-Eating Disorder – সেই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যেতে পারে। কারণ নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে এ রোগের সমান ঝুঁকি রয়েছে।

সাধারণত সাইকোথেরাপি, পুষ্টি সম্পর্কিত শিক্ষাদান, পারিবারিকভাবে পরামর্শ দান (Family counseling) আর ঔষধের মাধ্যমে এর রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।

রাজন এবার আহসানের দিকে তাকিয়ে বললো, “তাহলে জনাব সবজান্তা এই রোগের বিষয়ে আরো কিছু ব্যাখ্যা শোনাও যেগুলো শুনলে বুঝতে পারি সত্যি সত্যি এমন কিছু হয়েছে কি না।“  রাজেনের কথা বলার ধরণ সবসময় এমনই তাই খোঁচাটা কানে তুললো না আহসান। বললো, অস্বাভাবিক খাদ্যাভাস এর কিছু লক্ষন এখানে দেয়া আছে দেখো।“  বলে নিজের কম্পিউটারের স্ক্রিনটা সে রাজেনের দিকে একটু ঘুরিয়ে দিলো যাতে রাজেন নিজেও পড়তে পারে।

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস এর লক্ষণসমূহঃ

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস

লক্ষনগুলো পড়ে একটু চিন্তিত দেখালো রাজেন কে। নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলতে থাকলো, দেশের আর বিশ্বের যা অবস্থা তাতে দুশ্চিন্তা তো মাথায় ভর করে আছেই। অতিরিক্ত ক্ষুধা কি না জানি না কিন্তু কাজ বেশি করলে বেশ একটা খাই-খাই ভাব তো আসে। বসে বসে কাজ করি অন্য কাজ কম করা হয় ওজন যে বাড়ে না তা তো না কিন্তু এগুলো থেকে পুরোপুরি বোঝার উপায় নেই অবশ্য। কারণ বাকি লক্ষনগুলোর কোনোটাই আমার নেই।

আহসান সেই কথাগুলো শুনতে পেয়েছিলো। সে এবার বললো, “তুমি যেগুলো বলছো এই ধরনের লক্ষন কম বেশি অনেকের মাঝেই দেখা যায় তবে যে কারনে অস্বাভাবিক খাদ্যাভাস এর ঝুঁকির পরিমাণ বাড়তে পারে সেগুলো বলছি শোনো তাহলে, “

যে কারনে অস্বাভাবিক খাদ্যাভাস রোগের ঝুঁকির পরিমাণ বাড়তে পারে

  • অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়ে এবং তরুণীদের মধ্যে এই রোগ হবার সম্ববনা কিছুটা বেশি।
  • তবে এই সমস্যা লিঙ্গভেদে যে কোনো বয়সে দেখা দিতে পারে। তবে অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস (Eating disorder) সাধারণত বিশ বছর বয়সের আশেপাশের সময়ে বেশি হতে দেখা যায়।
  • জেনেটিকাল কারণে ভাই-বোনদের মধ্যে বা মা-বাবার থেকে সন্তানের মাঝে এই রোগ হতে পারে।
  • যমজদের মধ্যে একজনের এই সমস্যা থাকলে অন্যজনেরও এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এটিকে জিনগত কারণ বলা যাবে না, বরং এটি এই রোগের একটি সামাজিক কারণ বলা যেতে পারে।
  • হতাশা ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগ হবার সম্ভবনা বেশি থাকে।
  • পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে, যেমন- নতুন কোনো জায়গায় যাওয়া, নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া বা পুরানো সম্পর্ক ভেঙ্গের যাওয়ার কারণে যদি মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় এর ফলেও খাদ্যাভাসে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
  • ক্রীড়াবিদ, মিডিয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা যেমন – অভিনেতা- অভিনেত্রী, মডেল, নৃত্যশিল্পী বা শারীরিক গঠন আর সৌন্দর্য যাদের কাজের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তাদের এী রোগ হবার ঝুঁকি থাকে।

বিষয়টা এখন আমার কাছে বেশ পরিষ্কার হয়ে এসেছে। এই রোগ আমার নেই বলেই মনে হচ্ছে তবে এই কথায় একটা ব্যাপার মনে পরলো, আমার নিজেরো আসলে শরীরের দিকে একটু নজর দেয়া উচিৎ।

আসলে কি খাবো কি খাবো না, সুস্থ থাকতে কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিৎ আমার হাইট আর ওয়েট অনুযায়ী এগুলো নিয়ে একটু বসা লাগবে।  বললো রাজেন। এর উত্তরে কিছুক্ষন আগে দেখানো এনজাইম এর ওয়েবসাইটটা আবারো বের করলো আহসান।

বললো, “ঠিক এই বিষয়টা আমিও ভাবছিলাম আসলে, দেখো এই ওয়েব সাইটে নিজের লিঙ্গ, বয়স, উচ্চতা দিয়ে নিজের জন্যে স্পেসালাইজড ডায়েট চার্ট বানানোর ব্যবস্থাও আছে।“  আহসান বললো, “কিন্তু সারাক্ষণ তো পিসি তে বসে সব দেখা যায় না ফোন থেকে ব্যবহারের কোন উপায় আছে? “

আহসান জানালো এনজাইনের নিজস্ব অ্যাপ আছে যেটা যে কোন অ্যান্ডরয়েড ডিভাইসেই ব্যবহার করা যায়“বাহ! তাহলে তো বেশ ভালো, আমি আজকেই ইন্সটল করে দেখবো” বললো রাজেন। সাথে আর একটা প্রশ্ন করলো, “আচ্ছা, শেষ একটা প্রশ্ন ছিলো অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস (Eating disorder) এর ব্যাপারে। খাদ্যাভাসে অস্বাভাবিকতা প্রতিরোধের হেলথ টিপস কি কিছু পেয়েছিলে কোথাও? “

হেলথ টিপসঃ

আহসান হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে তার খুঁজে পাওয়া কিছু হেলথ টিপস রাজেনকে বলতে শুরু করলো,

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
  • বয়স ও শরীরের গঠন অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে সঠিক মাত্রার ভিটামিন, ঔষদ সেবন এবং উপযোগী ব্যায়াম সম্পর্কে জানতে হবে।
  • পরিবার ও অন্যান্য বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরানো উচিত নয়।
  • সঠিক ডায়েট কিভাবে করা যায় সে সম্পর্কে জানতে হবে।
  • বারবার আয়না দেখা থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
  • শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে।
  • সব সময় সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হবে এবং শিশুদের মধ্যেও এ ব্যাপারে আগ্রহ গড়ে তুলতে হবে।

সেদিনের মতন আলোচনা সেখানেই শেষ করলো দুই কলিগ, কারণ খাবারের বিরতিও শেষ হয়ে গিয়েছে আর পুরো বিষয়টার উপর আলোচনাও তখনের মত শেষ হয়েছে। 

স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের অন্যান্য ব্লগগুলো পড়তে ঘুরে আসুন আমাদের ব্লগসাইটের হোমপেজ থেকে।

অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুণ ইমেইল, ফেসবুক অথবা ফোন করুণ +০৯৬৩৯০০৬৬২২ নম্বরে।