অ্যালার্জি ব্যাপারটা যে পরিস্থিতিকে কখন কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে কোন ধারনাই ছিলো না নুহাশের। ছোট বেলায় তার এক মামার এ সমস্যা ছিলো। তার কাছ থেকে সে শুনতো  বেগুন, চিংড়ি এমন সব খাবার খেলে অনেকের অ্যালার্জি  হয়। খুব ধুলো-ময়লাতেও অনেকের এই অসুবিধা হতে দেখেছে সে। কিন্তু অ্যালার্জি কারণে হঠাৎ করে কারো শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে আর সে জন্যে হাসপাতাল পর্যন্ত ছুটতে হতে পারে, এটা সে কোন দিন কল্পনাও করতে পারে নি।  

ভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া নুহাশ আর তার তিন বন্ধু মিলে বেড়াতে গিয়েছিলো সাতকুনিয়া বোটানিক্যাল গার্ডেনে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরিবিলি একটা দিন কাটানোই ছিলো তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু পরিকল্পনার পুরোটাই ভেস্তে গেলো এই নচ্ছার রোগের কারণে!  প্রথম ঘণ্টাখানেক সব ঠিক ভাবেই চলছিল। তারপর হঠাৎ করেই নুহাশের এক বন্ধু শফিক বললো তার কেমন যেন শ্বাস কষ্ট হচ্ছে।

এখানে আসার পর থেকে হাঁচি দিয়েই যাচ্ছিলো শফিক। কিন্তু সেটা সাধারণ ঠান্ডার সমস্যা বলেই ধরে নিয়েছিলো সবাই। কিন্তু এখন দেখা গেলো তার চোখ লাল হয়ে গেছে, হাঁচির দমকে দরদরিয়ে পানি ঝরছে চোখ দিয়ে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাবার আগেই তাই শফিক কে ইকো পার্ক থেকে বাইরে নিয়ে আসলো বাকিরা। দেরি না করে দ্রুত সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে চলে এলো ওরা।

সেই হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে কর্মরত ছিলো নুহাশের আরেক বন্ধু সাইদের বড় ভাই সাইফ। সেই ডাঃ সাইফের তত্ত্বাবধানেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো শফিকের। কিছুক্ষন পরে শফিকের শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমে যাওয়ায় সে কিছুটা সুস্থ বোধ করলো। সবার মনে জমে থাকা আতংকটা কমে আসতেই হাজারটা প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করলো। কি কারণে যে শফিকের এই শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া সেটা নিয়েই সবার মূল বিভ্রান্তি।

শফিককে হাসপাতালের বেডে বিশ্রাম করতে দিয়ে, নিজের ডাক্তার ভাইকে সাইদ প্রশ্ন করলো, “ভাইয়া, আসলে কি হয়েছিলো শফিকের?” ভাইয়া জবাবে বললেন, “অ্যালার্জি সমস্যা। কিন্তু হঠাৎ এমন অবস্থা হলো কি করে?”  সাইদ জবাব দিলো, “আমরা তো বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে গিয়েছিলাম, তারপরই এই অবস্থা।“

ডাঃ সাইফ সবার মুখগুলো পরখ করে বুঝলেন অ্যালার্জি বিষয়টা এখানে কিভাবে আসছে সে বিষয়টা নিয়ে সবাই কিছুটা বিভ্রান্ত। তাই সে একটু ভেঙ্গে বিষয়টা ব্যাখ্যা করলো।

অ্যালার্জি কী?

অ্যালার্জি

বাইরের কোনো বস্তুর প্রতি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাই অ্যালার্জি। যেই বস্তুর কারণে এই অ্যালার্জি হয় তাকে বলে অ্যালার্জেন (allergen)।

তোদের বন্ধুর এই সমস্যা হয়েছে সম্ভবত বোটানিক্যাল গার্ডেনের কোন গাছ, ঘাস এগুলোর পরাগ থেকে। ওর নিশ্চয়ই উদ্ভিদের পরাগে  (Plant pollen)অ্যালার্জি সমস্যা আছে।

এবার নুহাশ জিজ্ঞাস করলো, “কিন্তু ভাইয়া শফিকের তো এমনি অ্যালার্জি আছে বলে শুনিনি কখনো। তাহলে হঠাৎ কিভাবে হলো?”

ডাঃ সাইফ উত্তরে বললো,

আসলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম (Immune system) কিছু জিনিষকে ভুল করে বিপজ্জনক আক্রমণকারী বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে, তখনই সাধারণত অ্যালার্জি সমস্যা দেখা দেয়। ইমিউন সিস্টেম তারপর সেই বিশেষ অ্যালার্জেনকে ধ্বংস করার জন্য শরীরের ভেতর বিশেষ অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আমরা আবার যখন সেই অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসি, তখন ইমিউন সিস্টেম হিস্টামিন (Histamine) নামের এক ধরনের কেমিক্যাল নিঃসরন করে। আর সেটার কারনেই আমরা শরীরে অ্যালার্জির লক্ষন দেখতে পাই। এই সমস্যা থেকে হালকা হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, কাঁপুনি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ভাইয়াকে আরো কিছু প্রশ্ন করার ইচ্ছে ছিলো নুহাশের। কিন্তু শফিক উঠে বসতে চাইছে দেখে সে সময়ের জন্যে প্রশ্ন করা মুলতবী রাখলো সে। কিছুটা সুস্থ হবার পর শফিক কে নিয়ে সাইয়িদদের বাসায় চলে এলো নুহাশ আর তার বন্ধুরা। ঢাকা থেকে বেড়াতে এসে সেখানেই উঠেছে তারা। একদিনের জন্যে যতেষ্ট ধকল গেছে, তাই আজ আর কেউ বাইরে বেরোবে না বলেই সিদ্ধান্ত নিলো সবাই।

অ্যালার্জি বিষয়টা তখনো মাথায় ঘুরছে নুহাশের। নিজের সাথে থাকা ট্যাবটা চালু করে ইন্টারনেটে এই বিষয়ে একটু খোঁজ করার সিদ্ধান্ত নিলো সে। সবার আগে কি কারণে এ সমস্যা হতে পারে সেগুলো খুঁজে বের করলো নুহাশ। এনজাইম নামের দেশী একটা ওয়েবসাইটে বেশ গুছিয়ে লেখা আছে এই ব্যাপারে।

কি কারণে অ্যালার্জি সমস্যা হতে পারে?

  • বায়ুবাহিত অ্যালার্জেন যেমন পরাগ (pollen), পশুর লোম, ধুলো ও অতি ক্ষুদ্র পরজীবী বিশেষের সংস্পর্শে এলে।
  • বিশেষ ধরনের খাবার যেমন চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম, গম, সয়া সস, মাছ, সেলফিস, ডিম ও দুধ খেলে।
  • মৌমাছি বা বোলতার কামড়ে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমন পেনিসিলিন বা পেনিসিলিন যুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে।
  • তরুক্ষীর (Latex)  বা আঠা জাতীয় পদার্থের সংস্পর্শ এলে।

অ্যালার্জি যে শুধু দুই একটা খাবারের মাঝে সীমাবদ্ধ না বরং আরো অনেক কারণে হতে পারে সেটা দেখে নুহাশের কপাল কিছুটা কুঁচকে রইলো। এই রোগ হলে কি কি লক্ষন দেখা দিবে সে ব্যাপারেও বলা আছে এনজাইমের ওয়েবসাইটে। সেই বিষয়টা নিয়ে এবার পড়তে শুরু করলো নুহাশ।

অ্যালার্জি সমস্যার লক্ষণসমূহঃ

  • ত্বকের ফুসকুড়ি (Skin rash)         
  • অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া (Allergic reaction)
  • ত্বকে চুলকানি (Itching of skin)   
  • পায়ে পানি আসা (Peripheral edema)
  • অস্বাভাবিক ত্বক (Abnormal appearing skin)         
  • কাশি (Cough)
  • চোখ ফুলে যাওয়া (Swollen eye)
  • ঠোঁট ফুলে যাওয়া (Lip swelling)
  • ত্বক ফুলে যাওয়া (Skin swelling)
  • চোখে চুলকানি (Itchiness of eye)
  • তরল জমা হওয়া (Fluid retention)            
  • জিহবা ফুলে যাওয়া (Swollen tongue)

“পরে বিষয়টা নিয়ে সাইফ ভাইয়ার সাথে আরো একটু বিস্তারিত আলাপ করতে হবে” ভেবে তখনের মত অ্যালার্জি বিষয়ে খোঁজা শেষ করলো নুহাশ। সন্ধ্যে হতে হতে শফিকের শরীর বেশ সুস্থ হয়ে উঠলো। ছাদে আর সবার সাথে চায়ের আড্ডাতেও যোগ দিলো। কিছুক্ষন পর ডাঃ সাইফ ছাদে এসে সবার সাথে বসে গল্প করতে লাগলো। এ কথা ও কথায় আবার সকালের ঘটনার উঠে এলো। ডাঃ সাইফ তখন শফিককে জিজ্ঞাস করলো, “আচ্ছা শফিক তোমার কি এমনিতে অ্যালার্জি সমস্যা আছে?”। শফিক ঘাড় নেড়ে না সূচক সম্বোধন করে বললো, “আমার তো এতোদিন ছিলো না ভাইয়া। কিন্তু আমার মায়ের এ সমস্যা অনেক দিনের।“

ডাঃ সাইফ বললো, “সেখান থেকে তোমার মাঝেও অ্যালার্জি সমস্যা এসে থাকতে পারে।“  একটু বিরতি দিয়ে সে আরো জানালো,

“পরিবারের কারো যদি অ্যালার্জি যেমন- হে ফিভার, লাল বর্ণের ফুস্কুড়ি বা অ্যাকজিমা থাকে তবে অন্যদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার হাঁপানি (ashtma)থাকলেও এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া এক ধরনের অ্যালার্জি থেকে অন্য ধরনের অ্যালার্জি সৃষ্টি হতে দেখা যায়।“

শফিক এবার ডাঃ সাইফকে জিজ্ঞাস করলো, ভাইয়া কোন ধরনের গাছ বা উদ্ভিদ থেকে এই সমস্যা সৃষ্টিকারী পরাগ বেশি তৈরি হয়?

কিছুক্ষন ভেবে উত্তরটা মনে মনে গুছিয়ে নিয়ে জবাব দিলো ডাঃসাইফ,

সাধারণত যে সব উদ্ভিদ (গাছ, ঘাস, এবং আগাছা) ফল বা ফুল দেয় না, তাদের পরাগ থেকে সাধারণত অ্যালার্জির উপসর্গ তৈরী হয়। এই উদ্ভিদকে বায়ুপরাগী (Airborne) বলে। যেহেতু বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন করে এরা তাই বেশী পরিমাণে ছোট, হালকা আর শুষ্ক পরাগ দানা উৎপাদন করে।

প্রচলিত যে সব উদ্ভিদে অ্যালার্জেন রয়েছে:

  • আগাছার মধ্যে আছে রেগউইড (Ragweed), সেজব্রাশ (Sagebrush), Tumbleweed (Russian thistle) (রাশিয়ান কাঁটাগাছ), ইংলিশ প্ল্যান্টেইন (English plantain) ইত্যাদি
  • তৃণ বা ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে টিমোথি ঘাস (Timothy grass), কেনটাকি নীল ঘাস (Kentucky blue grass), জনসন ঘাস (Johnson grass), বারমুডা ঘাস (Bermuda grass) রেডটপ ঘাস (Redtop grass), ফলের বাগানের ঘাস (Orchard grass)। সুইট ভার্মাল ঘাস (Sweet vernal grass), বহুবর্ষজীবী রাই (Perennial rye), সল্ট ঘাস (Salt grass), ভেলভেট ঘাস (Velvet grass) এগুলো উল্লেখযোগ্য।
  • এছাড়া বড গাছ  যেমন ওক (Oak), ছাই (Ash), এলম (Elm), বার্চ (Birch), মেপল (Maple), ভূর্জজাতীয় বৃক্ষ (Alder),  পেকান, বক্স এসব গাছ থেকে অ্যালার্জি হতে পারে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে এর মাঝে কিছু গাছ আর উদ্ভিদ যে ছিলো সেটা সবাই লক্ষ করেছে। এর কোনোটা থেকেই যে শফিকের অ্যালার্জি হয়েছিলো এখন সেটা সবাই বুঝতে পারলো।

এবার প্রশ্ন এলো নুহাশের কাছ থেকে, “ভাইয়া, চিকিৎসা করালে অ্যালার্জি কি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব?”

চায়ের কাঁপে চুমুক দিয়ে জবাব দিলো ডাঃ সাইফ,

না, এই সমস্যা একবার হলে কখনোই পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না, কিন্তু অ্যালার্জির উপসর্গের চিকিৎসা করে আর নিয়ম মেনে চলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আশেপাশের পরিবেশ আর জীবন-যাপনে পরিবর্তন এনে সেই সাথে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থেকে  এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এছাড়াও ঔষধ এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ব্যক্তি ভেদে অ্যালার্জির চিকিৎসার প্রতি শরীরের ইমিউন সিস্টেম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে, শিশুরা তাদের অ্যালার্জি থেকে নিরাময় লাভ করতে দেখা যায়। Immunotherapy বা অ্যালার্জি শট নামের যে চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে এটা আসলে কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বরং এটি নির্দিষ্ট কিছু পদার্থ থেকে সৃষ্টি হওয়া অ্যালার্জির উপসর্গ কমাবার একটি উপায় মাত্র।

শফিক কিছুটা চিন্তা নিয়ে বার কয়েক ঢোক গিলে ডাঃ সাইফের দিকে তাকিয়ে শেষ একটা প্রশ্ন করলো, “এই রোগের ঝুঁকি কমানোর মত কোন ব্যবস্থা কি আছে ভাইয়া?”

সাইফ বুঝতে পারলো শফিক চিন্তায় পরে গেছে। সে তাই একটু ভেঙ্গে ব্যাখ্যা করে বিষয়টা বুঝিয়ে বললো,

হেলথ টিপস:

  • লবণ ও পানির মিশ্রণ ব্যবহার করে নাকের শ্লেষ্মা  (Mucus) পরিষ্কার করা যেতে পারে।
  • সবসময় ফিল্টার করা পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।
  • নিয়মিত গরম পানিতে নিত্য ব্যবহার্য জিনিস যেমন বিছানাপত্র বা শিশুদের ক্ষেত্রে খেলনা পরিষ্কার করতে হবে।
  • মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার না করা ভালো কারণ এতে ধুলো আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকে। সম্ভব হলে ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করে ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • ঘরে বাতাস চলাচলের জন্যে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঘরের ভিতরে এবং বাইরের দেয়ালে ফাটল বা লিক থাকলে তা ঠিক করিয়ে নিতে হবে।

অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া যাতে না দেখা দেয় সে জন্যে কিছু কাজ করা যেতে পারে যেমন-

  • ব্যক্তি ভেদে যার যেসব কারনে এই সমস্যা হয় সেগুলো থেকে যথা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করা। যেমন, ধূলা, ময়লা, পরাগরেণু (Pollen) এড়িয়ে চলা।
  • অ্যালার্জি দেখা দিলেও যাতে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায় সে জন্যে ঠিক কি কি কারনে এই সমস্যা হচ্ছে সেগুলো মনে রাখা।

নুহাশ আর তার বন্ধুদের অ্যালার্জি বিষয়ে ধারনা এখন বেশ পরিষ্কার হলো। এমন একটা ঘটনা কারো জন্যেই প্রত্যাশিত নয়। তবু এই ঘটনাটা থেকে যে শিক্ষা তারা পেলো সেটা যে তাদের পরবর্তী জীবনে কাজে আসবে সে বিষয়ে কারো কোন সন্দেহ রইলো না।   

স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের অন্যান্য ব্লগগুলো পড়তে ঘুরে আসুন আমাদের ব্লগসাইটের হোমপেজ থেকে।

অ্যালার্জি সম্পর্কে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুণ ইমেইল, ফেসবুক অথবা ফোন করুণ +০৯৬৩৯০০৬৬২২ নম্বরে।