গ্রীষ্মের প্রখর রোদে ঘরের ভেতরে থেকেও যেখানে কেমন যেন অস্বস্তি বোধ হতে থাকে, সেখানে ঘরের বাইরে বের হবার কথা মনে হলেই আতঙ্কিত লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জীবন জীবিকার তাগিদেই হোক কি অন্য প্রয়োজনে আমাদের অনেকেরই এই প্রচন্ড গরমের মাঝেও বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন পরে। তাই নিত্যসঙ্গী এই গরমের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে সুস্থ রেখে কিভাবে বাইরে যাওয়া যেতে পারে সেই বিষয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।

এই গরমের মাঝে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় নিজের পোশাক-আশাক। সে জন্যে আলোচনার শুরুতে থাকছে কোন ধরনের পোশাক পড়লে গ্রীষ্মের এই সময়টায় তুলনামূলক ভাবে আরাম পাওয়া যাবে।

গরমের দিনে যে ধরনের পোশাক পড়া উচিৎঃ   

  • মোটা কাপড়ের বা ভারি পোশাক গ্রীষ্মের এই সময়টায় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো, এমন পোশাক পড়ে বাইরে যাবার চেষ্টা করুন যা একই সাথে আপনার জন্যে হয় আরামদায়ক এবং স্বাচ্ছন্দ্যকর।
  • দাবদাহের এই সময়টাতে স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যে বেছে নিতে পারেন লিনেল বা সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক।
  • আঁটসাঁট পোশাক না পরে এ সময় ঢিলেঢালা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরাই ভালো।
  • হালকা রঙের কাপড় পরা হতে পারে এ সময়ের জন্যে আরামদায়ক , বিশেষ করে কালো বা গাঢ়ো রঙের গ্রীষ্মের এই সময়টাতে না পরাই ভালো।
গরমের দিনে যে ধরনের পোশাক পরবেন

বাইরে যাবার প্রস্তুতির আরেক অপরিহার্য অংশ হচ্ছে জুতো। গরমের সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে চলাচলের জন্যে সঠিক রকমের জুতো নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   

  • প্রয়োজন ছাড়া ভারী এবং সব দিক দিয়ে ঢাকা জুতো এই সময় না পরাই ভালো।
  •  হালকা ধরনের স্যান্ডেল বা ফ্লিপ-ফ্লপ এ ক্ষেত্রে হতে পারে আপনার জন্যে আদর্শ।
  • বাতাস চলাচল করতে পারে এ ধরনের জুতো পরতে পারা উত্তম।

এতো গেলো কোন ধরনের পোশাক পড়লে গরমের দিনে বাইরে বের হবেন তার ফিরিস্তি। কিন্তু কেবল জামাকাপড়েই তো আর বাইরে যাবার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় না। সে জন্যে দরকার আরো বিশেষ কিছুদিকে খেয়াল রাখা। তাই এবার জানার চেষ্টা করা যাক গ্রীষ্মের রোদে বাইরে বের হবার প্রস্তুতি হিসেবে আর কি   প্রস্তুতি নেয়া যেতে পারে।

রোদে বের হবার পূর্ব প্রস্তুতিঃ

  • রোদের প্রখরতা সবচাইতে বেশি ক্ষতি করে আমাদের ত্বকের। বিশেষ করে আমাদের শরীরে যে অংশগুলো সরাসরি সূর্যের তাপের সংস্পর্শে আসে। যেমন – মুখমণ্ডল, গলা, হাত-পা ইত্যাদি। গ্রীষ্মের এই তাপ থেকে নিজের ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে তাই ব্যবহার করা যেতে পারে এসপিএফ (সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর) যুক্ত সানস্ক্রিন।
  •  সেই সাথে অস্বস্তিকর রোদ থেকে নিজের মুখমণ্ডলকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে হ্যাট বা ক্যাপ।  
  • চোখের উপর রোদের নিদারুণ অত্যাচার কমানোর জন্যে স্বস্তিকর হতে পারে রোদ চশমা বা সানগ্লাসের ব্যবহার।
  • গরমে ঘামের দুর্গন্ধ যাতে নিজেকে বা অন্যদের অস্বস্তির কারণ না হয় সে জন্যে ব্যবহার করুন পারফিউম বা বডি-স্প্রে।


আপনি গ্রীষ্মের গরমে বের হবার জন্যে পূর্ণ প্রস্তুত? না, এখনো কিছু জিনিষ মিলিয়ে নেয়া বাকি। গরমের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে আপনি প্রস্তুত হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধে সাথে নেবার ঢাল তলোয়ার প্রস্তুত করা যে এখনো বাকি। চলুন জেনে নেই এই সময়টাতে দিনে ঘরের বাইরে যাবার সময় কোন জিনিষগুলো সাথে রাখা প্রয়োজন।

বাইরে যাবার সময় যা কিছু রাখতে পারেন নিজের সাথেঃ

  • মহামারীর এই সময়ে গরম হোক কি ঠাণ্ডা নিজের সুরক্ষার জন্যে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিষ সঙ্গে রাখুন।
  • রোদ হিট স্ট্রোক থেকে নিজেকে বাঁচাতে বা গরমের দিনের হঠাৎ শুরু হওয়া বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সাথে রাখতে পারেন ছাতা।
  • গরমে ঘেমে ডিহাইড্রেট হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে সাথে রাখুন পানির বোতল এবং সম্ভব হলে খাবার স্যালাইন।
  • ঘামের দুর্গন্ধ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সাথে রাখুন বড়ি-স্প্রে।
  • মুখ পরিষ্কার করতে বা ঘাম মুছতে সঙ্গে রাখতে পারেন ছোট তোয়ালে বা ওয়েট টিস্যু।

বাইরে যাবার প্রস্তুতির আলোচনা তো হলো। তারপরও এর বাইরে সাধারণ কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো যেগুলো এই গরমের দিনে মেনে চললে অস্বস্তি কিছুটা হলেও কম মনে হবে।

গরমের দিনে মেনে চলার জন্যে সাধারণ কিছু টিপসঃ

  • ত্বককে সতেজ রাখতে সম্ভব হলেই ধুয়ে নিন মুখ, হাত-পা ।
  • প্রচুর পরিমাণে তরল পানীয় বিশেষ করে পানি পান করুন।
  • ব্যায়াম-শারিরীক কসরত সকালে রোদ ওঠার আগে অথবা সম্ভব হলে বিকেলের পরে করুন।
  • বাইরে থেকে ঘরে ফিরে টমেটোর রস বা তরমুজের রস মুখে ঘষে নিতে পারেন এতে রোদে পোড়া ভাব দূর হবে।
  • চুলে নিয়মিত স্যাম্পু করুন এবং নিয়মিত গোসল করুন।
  • ত্বক ভালো রাখতে গরমের সময়ে সময় সপ্তাহে কয়েকবার নিমপাতাসহ সেদ্ধ করা পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য বিষয়ক আরো তথ্য পেতে, নিজের শারীরিক সমস্যা অনুযায়ী রোগ নির্নয় করতে অথবা নিজের ডায়েট চার্ট নিজে তৈরি করতে ভিজিট করুণ এনজাইম ওয়েবসাইটে।