গরমের দিনে অথবা আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টায় হালকা গলা ব্যথা (Sore throat) খুব একটি সাধারণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হয়। কিন্তু সময়ের আতঙ্ক মহামারী কোভিডের গ্রাস চারদিক থেকে সবাইকে চেপে ধরায় নিতান্ত নিরীহ চেহারার এই রোগ এখন হয়ে উঠেছে ভয়াবহ চিন্তার বিষয়। 

অন্য সময় হলে গলা ব্যথাকে আমলেই নিতো না শিমুল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই গলা ব্যথা নিয়ে চিন্তা করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেলো সে। সাধারণ গলা ব্যথা অসাধারণ হয়ে ওঠার আগেই এ বিষয়ে একটু বিস্তারিত জানার জন্যে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করার সিধান্ত নিলো শিমুল। প্রথমে সে পরে নিলো গলাব্যথা বলতে আসলে কি বোঝায়। 

গলা ব্যথা কী?

গলা ব্যথা (Sore throat)

গলা ব্যথা বলতে সাধারণত গলার যন্ত্রণা ও অস্বস্তি ভাবকে বোঝায়। সাধারণত এই লক্ষণটি অ্যাকিউট ফ্যারেনজাইটিসের (acute pharyngitis) কারণে হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে করোনা মহামারী, ট্রমা, ডিপথেরিয়া ও অন্যান্য কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবেও গলা ব্যথা হবার সম্ভাবনা থাকে।

রকমভেদে এই ব্যথার মাত্রা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, এই ব্যথা মৃদু থেকে তীব্র যে কোন রকমের হতে পারে।

এটুকু তথ্য শিমুল আগে থেকে মোটামুটি জানতো। তবে ঠিক কি কারণে এই গলা ব্যথা হতে পারে সে বিষয়েও জেনে নেয়ার আগ্রহ বোধ করলো শিমুল। ইন্টারনেটে এই পেজ ও পেজ ঘুরেতে ঘুরতে এনজাইম নামের বাংলাদেশী একটা ওয়েবসাইটে সে দেখতে পেলো গলা ব্যথার উপর বেশ সুন্দর ভাবে বিস্তারিত  লেখা আছে। সেখান থেকে গলা ব্যথার কারণগুলো পরে নিলো শিমুল। 

গলা ব্যথা যে কারণে হতে পারেঃ  

  • অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস
  • অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস
  • কনজাঙ্কটিভাইটিস
  • ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ
  • কোভিড-১৯
  • ডেঙ্গু জ্বর
  • টনসিল ইনফেকশন
  • মাম্পস
  • গলায় ইনফেকশন
  • কানে প্রদাহ
  • ল্যারিনজাইটিস / গলায় প্রদাহ
  • ফ্যারিঞ্জাইটিস
  • ক্রনিক সাইনো সাইনোসাইটিস
  • নাকের ফোঁড়া
  • মিউকোসাইটিস

গলা ব্যথার কারণ হিসেবে এতো কিছু থাকতে পারে খুঁজে না পড়লে কখনো বিশ্বাস করতে পারতো না শিমুল। এর  মাঝে এমন বেশ কিছু কারণ সে খুঁজে পেলো যেগুলোর বিষয়ে কোন রকম ধারনা ছিলো না তার। 

এনজাইমের ওয়েবসাইটে গলা ব্যথার কারণের সাথে লক্ষণগুলোও গোছানো ভাবে উল্লেখ করা আছে। শিমুল একে একে সেই লক্ষণগুলোও পড়ে নিলোঃ 


গলা ব্যথা লক্ষণসমূহঃ 

  • কাশি
  • জ্বর
  • নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া
  • কানের ব্যথা
  • মাথা ও কপালে ব্যথা
  • পুরো শরীরে ব্যথা
  • খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া
  • ঠাণ্ডায় কাঁপুনি
  • লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
  • কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া

বেশ কিছু লক্ষণ নিজের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলে যাওয়ায় শিমুল বেশ চিন্তিত হলো। সে চাচ্ছে না তার এই ব্যথার সমস্যাটা বাড়ুক। এ কারণে কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার ব্যবস্থা সে খুঁজছিল। এনজাইমের যে ওয়েবসাইটে শিমুল এই তথ্যগুলো দেখছিলো সেখানেই সে দেখতে পেলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে শুরু করে ইমারজেন্সি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করার মতন সকল ব্যবস্থাই এনজাইমের ওয়েবসাইটে আছে দেখতে পেলো শিমুল। 

দেরী না করে ইমারজেন্সি ডাক্তারের সাথে তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সিধান্ত নিলো শিমুল। এনজাইমের ইমারজেন্সি ডাক্তারের কাছে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলার পর তার কাছ থেকে বেশ কিছু ভালো তথ্য পেলো সে। শিমুলের জিজ্ঞাস করা প্রশ্নের উত্তরে কর্তব্যরত ইমারজেন্সি ডাক্তার জানান,  

গলা ব্যথার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহঃ  

  • শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে: শিশুকিশোরদের গলা ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক ভাবে বেশি হয়ে থাকে। শিশুদের স্ট্রেপ থ্রোট (strep throat) হবার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এটি গলায়  ব্যথার সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন।
  • তামাকের ধোঁয়া: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গলায় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবনের ফলে মুখগহ্বর, গলা ও সরযন্ত্রের (voice box) ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তো থাকছেই।
  • অ্যালার্জি: ধূলা, ছত্রাক বা বিভিন্ন ধরনের পশুর লোম থেকে অ্যালার্জি হবার সম্ভবনা থাকে। এর বাইরে কিছু মানুষের মৌসুম পরিবর্তনের কারণে অথবা স্থায়ী অ্যালার্জিতে ভোগার কারণে গলায় ব্যথা হবার সম্ভাবনা থাকে।
  • রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ: জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা এবং গৃহস্থালীর কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসলে গলায় অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
গলা ব্যাথা

শিমুলের পরবর্তী প্রশ্ন ছিলো,

গলা ব্যথার কোন পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ? 

এ প্রশ্নের জবাবে ইমারজেন্সিতে থাকা ডাক্তার জানান, 

নিজের কাছে অস্বস্তির মাত্রা বেশি মনে হলে অবশ্যই তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ। এর বাইরে গলা ব্যথার মাত্রা তীব্র হলে  এবং ৫ থেকে ৭ দিনের (সর্দি-জ্বরের স্থায়ীত্বকাল) বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। তা ছাড়া কারো যদি অ্যালার্জি বা কোন বিশেষ কারণে গলায় অস্বস্তি সৃষ্টির কারণ না থাকা স্বত্বেও গলা ব্যাথা হতে থাকে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

শিমুলের পরবর্তী প্রশ্ন,

গলা ব্যথা থাকা অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়া উচিৎ কি না? 

এ প্রশ্নের উত্তরে এনজাইমের ইমারজেন্সিতে থাকা চিকিৎসক জানালেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোন ধরনের গলা ব্যাথা অথবা জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ। প্রয়োজনে কোভিডের টেস্ট করিয়ে নেয়া উচিৎ। 

যদি এই গলা ব্যাথার সাথে কোভিডের কোন সম্পর্ক নাও থাকে তারপরও  সর্দি-জ্বর এবং ইনফেকশনজনিত ব্যথা  নিয়ে অফিস ও স্কুলের মতো জনপূর্ণ স্থানে সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা গলা ব্যথা হলে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সঠিক এবং গোছানো পরামর্শ পেয়ে সন্তুষ্ট হলো শিমুল। চিকিৎসককে আর কোন প্রশ্ন না থাকায় ধন্যবাদ দিয়ে কথোপকথন শেষ করার সময় এনজাইমের ইমারজেন্সিতে থাকা চিকিৎসক শিমুলকে এ বিষয়ে কিছু হেলথ টিপসের একটি ফাইল শেয়ার করেন। 

হেলথ টিপসঃ 

  • বর্তমান পরিস্থিতিতে গলা ব্যথা হলে চিকিৎসকের যাথে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনে কোভিড টেস্ট করিয়ে নিন।
  • গলাব্যাথায় আক্রান্ত কোন ব্যক্তি যদি আশেপাশে থাকে তাহলেও নিজের দূরত্ব বজায় রাখুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে থাকলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন এবং নিজের হাত পরিষ্কার রাখুন। 
  • যে সব কারণে গলা ব্যাথা সৃষ্টি হবার বা বেড়ে যাবার সম্ভবনা থাকে যেমন ধোঁয়া, বাষ্প গলায় প্রবেশ করা, চিৎকার করা ইত্যাদি বিষয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন পরিহার করুন। 
  • পরোক্ষভাবে ধূমপান অথবা কোন ধরনের রাসায়নিক ধোঁয়া যাতে শরীরে প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

এতো সুন্দর গোছানো বিবরন এবং চিকিৎসকের সাথে সরাসরি পরামর্শ করার মতন ব্যবস্থা একই প্ল্যাটফর্মে পেয়ে খুবই খুশি হলো শিমুল। পরবর্তীতে যে কোন স্বাস্থ্য সমস্যায় যদি কোন ধরনের পরামর্শের প্রয়োজন হয় তাহলে এজনাইমেই সবার আগে যোগাযোগ করবে বলে সে মনস্থ করলো। 

স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের অন্যান্য ব্লগগুলো পড়তে ঘুরে আসুন আমাদের ব্লগসাইটের হোমপেজ থেকে।

গলা ব্যথা (Sore throat) সম্পর্কে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুণ ইমেইলফেসবুক অথবা ফোন করুণ +০৯৬৩৯০০৬৬২২ নম্বরে।