চোখে ছানি। বয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৮০% অন্ধত্বের কারণ। চোখে পর্দা পড়া হিসেবেও পরিচিত। চোখে সানি অত্যন্ত প্রচলিত একটি রোগ হলেও চোখে ছানি কী, চোখে ছানি কেন হয় ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্বচ্ছ ধারনা নেই। চোখে ছানি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেই আমাদের আজকের ব্লগ।




বিষয়টা সামান্যই। তবে নজর এড়িয়ে গেল না রফিকের। ও বুঝতে পারলো কোনো সমস্যা হচ্ছে। ঠিক করলো এখন থেকে বাবাকে চোখে চোখে রাখবে।

হাসান সাহেবের বয়স কদিন আগে ষাট পেরোলো। তার স্ত্রী গত হয়েছেন গেলো বছর। এবার জন্মদিনটা খুব খালি খালি লাগলেও ছেলে ঠিকই রাত ১২টার সময় কেক কাটার আয়োজন করলো। মোমবাতি নেভাতে গিয়েই হল বিপত্তি। চোখে তেমন কিছু দেখছে না সে। যদিও বুঝতে পারছে থোকা থোকা আলোর বলগুলো মোমবাতিরই। তবুও একটু কষ্টই হল ফু দিয়ে নেভাতে। ভাবলো বয়স হয়ে গেছে। আর কত!

এই ঘটনাটাই রফিককে একটু চিন্তিত করে তুললো। ওর মনে হল বাবা হয়ত চোখে একটু কম দেখছে। এরপরে যে ঘটনা ঘটলো সেটার পর আর অপেক্ষা করা যায় না।

হাসান সাহেব তার রুম থেকে খাবারের টেবিলে আসার সময় সামনে থাকা একটা ছোটো টুল খেয়াল না করায় পা দিয়ে একদম পড়ে গেলেন। অথচ টুলটা ছোটোখাটও নও। না দেখার কোনো কারণ এই।

এরপরেই রফিক ঠিক করলো বাবাকে চোখের ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। গুগলে অপথালমোলজির ডাক্তার খুজতে যেয়ে Enzaime Ltd এর Enzaime Patient Care অ্যাপ থেকে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলো। কোম্পানিটির সার্ভিসে বেশ অবাকই হলো রফিক। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবার সাথে সাথে মোবাইলে এসএমএস তো এলোই, সাথে সাথে অফিস থেকে ফোন করে কনফার্মও করলো। বেশ ভালো!

অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন রফিক সময়মত চেম্বারে পৌছে সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকলো বাবাকে নিয়ে। ডাক্তার নিরাময় সরকার। বিখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ। হাসান সাহেবের বয়সেরই হবে। হয়ত কিছুটা বেশিও।

ডাক্তার সাহেব সালামের উত্তর নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কার সমস্যা।

রফিক বললো,

–   জ্বি আমার বাবার।

–   কী সমস্যা হচ্ছে?

রফিক বলতে যেতেই ডাক্তার নরম সুরে বললেন ওনাকেই বলতে দিন। তাহলে ফার্স্ট হ্যান্ড অভিজ্ঞতাটা পাবো আর কী।

–   জ্বি জ্বি, অবশ্যই।

–   চোখে ঝাপসা দেখছি বেশ কিছুদিন যাবত। বললেন হাসান সাহেব।

–   আপনার বয়স এখন কত?

–   ৬০ হল কদিন আগে।

–   শারীরিক আর কোনো কমপ্লিকেশন আছে?

–   ডায়েবিটিস আছে।

–   আর কিছু?

–   না আর তেমন কিছু নেই।

–   চোখে আর কোনো সমস্যা হয়? ব্যথা হয়? পানি পড়ে?

–   মাঝে মাঝে পানি পড়ে।

একটা টুল দেখিয়ে হাসান সাহেবকে ডাক্তার বসতে বললেন। মেশিন দিয়ে চোখ কিছুক্ষণ পরীক্ষা করে বললেন,

–   আপনার চোখে ছানি পড়েছে।

রফিক বললো,

–   ডাক্তার সাহেব সব সময়েই তো শুনি ছানি কথাটা কিন্তু জানি না আসলে এটা কী বা কেন হয়। একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ?

–   সার্টেইনলি।

চোখে ছানি কী?

চোখে সানি

চোখে ছানি পড়াকে মেডিকেল সাইন্সের ভাষাট লেন্স অপাসিটি (Lens Opacity) ও লেনটিকুলার অপাসিটি (Lenticular Opacity) নামেও বলা হয়। মূলত চোখের স্বচ্ছ লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়াকে ছানি পড়া বলা হয়।



কুয়াশায় ঢাকা কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো হলে বাইরের পরিবেশ যেমন ঘোলাটে দেখায়, চোখে ছানি পড়া ব্যক্তিদের দৃষ্টি তেমন ঘোলাটে হয়ে থাকে।

ছানি সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে এবং প্রাথমিক অবস্থায় এর দ্বারা দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। তবে পরবর্তীতে এই রোগ স্বাভাবিক দৃষ্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে চশমা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। ঘরে আলোর পরিমাণ বাড়িয়েও এই সমস্যা দূর করা যায়। তবে স্বাভাবিক দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হলে ছানি সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে। ছানির সার্জারি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কার্যকারীভাবে করা সম্ভব।

চোখে ছানি পড়ার কারণ

সাধারণত বয়স বৃদ্ধি বা আঘাতের কারণে চোখের লেন্সের টিস্যুর পরিবর্তন ঘটলে ছানি পড়ে। চোখের কিছু কিছু ছানি জিনগত ত্রুটি/অস্বাভাবিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই ত্রুটিগুলো ছানিসহ আরও কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়াও ডায়াবেটিস, ট্রমা এবং চোখের সার্জারিসহ চোখের অন্যান্য কিছু সমস্যার কারণেও ছানি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে ঔষধ হিসেবে স্টেরয়েড গ্রহন করলেও ছানি হতে পারে।



চোখে ছানি যেভাবে গঠিত হয়ঃ

আইরিস (iris) নামক চোখের রঙিন অংশের পিছনে লেন্স অবস্থিত। চোখের এই্ লেন্সেই ছানির সৃষ্টি হয়। বাইরে থেকে চোখে প্রবেশকৃত আলোকে লেন্স ফোকাস করে রেটিনার (retina) উপর প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। রেটিনা হল এক ধরনের আলোকসংবেদী ঝিল্লি, যা অক্ষিগোলকের(Eyeball) ভিতরের অংশের পিছনের দেয়াল/প্রাচীরের উপর অবস্থিত। রেটিনা অনেকটা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে।

ছানি পড়া ব্যক্তির চোখে আলো যখন লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে, তখন ছানি তা বিক্ষিপ্ত করে দেয়। এর ফলে রেটিনায় স্বচ্ছ প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হতে পারে না এবং দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যায়।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের নমনীয়তা ও স্বচ্ছতা কমে যায়। এছাড়া বয়স বাড়ার কারণে চোখের পুরুত্বও বেড়ে যেতে থাকে। বয়সজনিত এসব পরিবর্তনের কারণে লেন্সের মধ্যে অবস্থিত টিস্যুগুলো ভেঙে গিয়ে গুচ্ছাকার রূপ ধারণ করে। এজন্য লেন্সের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্বচ্ছ/ঘোলাটে অংশের সৃষ্টি হয়। ছানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে অস্বচ্ছ এই অংশগুলোর ঘনত্ব বাড়ে এবং লেন্সের অধিকাংশ অংশকে প্রভাবিত করে।

–   ছানি শুধু একটি চোখেও হতে পারে, যদিও রোগটি সাধারণত দুই চোখে হয়ে থাকে। তবে দুই চোখে সাধারণত একই মাত্রায় ছানি দেখা দেয় না।


ছানির প্রকারভেদ

নিউক্লিয়ার ক্যাটার‍্যাক্ট (Nuclear Cataract) (লেন্সের মধ্যভাগকে প্রভাবিত করে)

নিউক্লিয়ার ক্যাটার‍্যাক্ট প্রাথমিক অবস্থায় হ্রস্বদৃষ্টি সৃষ্টি করে। এর কারণে সাময়িকভাবে পড়ার (বই/কাগজ) সময় আপনার সুবিধা হতে পারে। তবে সময়ের সাথে সাথে লেন্স ঘন হলুদ হতে থাকে, ফলে আপনার দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যায়। ছানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে লেন্স বাদামিও হয়ে যেতে পারে। যদি লেন্স অতিরিক্ত হলুদ বা বাদামী হয়ে যায়, তাহলে রংয়ের ঘনত্বের পার্থক্য বুঝতে আপনার সমস্যা হতে পারে।

কর্টিক্যাল ক্যাটার‍্যাক্ট (Cortical Cataract) (লেন্সের প্রান্তকে প্রভাবিত করে)

প্রাথমিক অবস্থায় কর্টিক্যাল ক্যাটার‍্যাক্ট সাদাটে ও অস্বচ্ছ ত্রিভুজ বা দাগ আকারে লেন্স কর্টেক্সের বাইরের প্রান্তে দেখা দেয়। এটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে দাগগুলো লেন্সের কেন্দ্রের দিকে প্রসারিত হতে থাকে এবং লেন্সের কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে যাওয়া আলোর গমনকে ব্যাহত করে। এই ধরনের ছানি হলে চোখ ঝলসানোর সমস্যা দেখা দেয়।

পোস্টেরিয়র সাবক্যাপসুলার ক্যাটার‍্যাক্ট (Posterior Subcapsular Cataracts) (লেন্সের পিছনের অংশকে প্রভাবিত করে):

একটি ছোট অস্বচ্ছ অংশ হিসেবে লেন্সের পিছনের দিকের কাছাকাছি পোস্টেরিয়র সাবক্যাপসুলার ক্যাটার‍্যাক্টের সূত্রপাত ঘটে। এই স্থান থেকেই আলো রেটিনাতে প্রবেশ করে। এই ধরনের ছানির জন্য বই পড়তে অসুবিধা হতে পারে। এছাড়া এর কারণে তীব্র আলোতে দেখতে অসুবিধা হতে পারে এবং রাতে আলোর সামনে চোখ ঝলসানি হতে পারে।

জন্মগত ছানি (Congenital Cataracts):

জন্মগতভাবেই কিছু ব্যক্তির চোখে ছানি থাকে, আবার অনেকের চোখে শৈশবে ছানির সৃষ্টি হয়। সন্তান গর্ভে থাকার সময়ে যদি মহিলাদের কোনো ইনফেকশন হয়, তবে সন্তানের ছানি হতে পারে।

মায়োটনিক ডিসট্রফি (Myotonic Dystrophy), গ্যালাকটোসেমিয়া (Galactosemia), লো সিনড্রম (Lowe syndrome) অথবা রুবেলার( rubella) মতো রোগের কারণেও এ ধরনের  ছানি দেখা দিতে পারে। জন্মগত ছানি সবক্ষেত্রে চোখের দৃষ্টিকে প্রভাবিত করে না। তবে এর দ্বারা দৃষ্টি প্রভাবিত হলে, সাধারনত শনাক্তকরণের পরই তা অপসারিত করা হয়।

রফিক জিজ্ঞেস করলো,

–      ছানির লক্ষণগুলো কী কী?

চোখে ছানি পড়ার লক্ষণ

চোখে ছানি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়:

·         চোখে কম দেখা (Diminished Vision)

·         ঘোলাটে দৃষ্টি (Spots or clouds in vision)

·         চোখে ব্যথা হওয়া (Pain in eye)

·         চোখ দিয়ে পানি পড়া (Lacrimation)

·         চোখে চুলকানি (Itchiness of eye)

·         অন্ধত্ব/চোখে না দেখা (Blindness)

·         চোখের অভ্যন্তরে কোনো কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করা (Foreign body sensation in eye)

·         চোখ জ্বালাপোড়া করা (Eye burns or stings)

·         ডাবল ভিশন/দৃষ্টি (Double Vision) ঘোলাটে চোখ (Cloudy eye)

·         চোখের পাতার অস্বাভাবিক নড়াচড়া (Abnormal movement of eyelid)



চোখে ছানির ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ


ঝুঁকির বিষয় আছে কি এই সমস্যার কোনো? রফিক জিজ্ঞেস করলো।

–   সাধারণত নিম্নলিখিত বিয়ষগুলি ছানির ঝুঁকি বৃদ্ধি করে:

·         বয়স বৃদ্ধি।

·         ডায়াবিটিস

·         অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান।

·         তীব্র সূর্যালোকের সংস্পর্শে যাওয়া।

·         তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব (এক্স-রে ও ক্যানসার রেডিয়েশন থেরাপি)।

·         পরিবার/বংশে ছানিতে আক্রান্ত ব্যক্তি থাকা।

·         উচ্চ রক্তচাপ।

·         শরীরের অতিরিক্ত ওজন/স্থূলতা।

·         পূর্বে চোখে আঘাত লাগা বা ইনফ্লামেশন হওয়া।

·         পূর্বে চোখে সার্জারি হওয়া।

·         দীর্ঘ দিন কর্টিকোস্টেরয়েড (Corticosteroid) ঔষধ গ্রহণ।

·         ধূমপান

–   বাবার ক্ষেত্রে চিকিৎসা কী হবে ডাক্তার সাহেব?

–   আমি একটা টেস্ট দিচ্ছি সেটা দেখলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তবে আমার ধারণা আপনার বাবার ছানি ম্যাচিউর হয়েছে। এটা অপারেশন করে রিমুভ করতে হবে।

–   ম্যাচিওর ক্যাটার‌্যাক্ট আর নন-ম্যাচিওর ক্যাটার‌্যাক্ট বলতে কী বোঝায়?

–   ছানি কতোটা অপসারণ করার মতো অবস্থায় আছে, তার উপর ভিত্তি করে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ম্যাচিওর ক্যাটার‍্যাক্টের কারণে ঘোলা দৃষ্টি, চোখ ঝলসানোর মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এর কারণে আপনার দৈনন্দিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। নন ম্যাচিওর ক্যাটার‍্যাক্টের ক্ষেত্রে কম লক্ষণ দেখা দেয়।

চোখে ছানির অপারেশন


–   প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার কতো সময় পর ছানি অপসারণ করা উচিৎ ?


–   ছানির অপসারণ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করছে। যদি ছানির কারণে দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তবে সার্জারি পরবর্তীতে করা যেতে পারে। চশমা ব্যবহার করলেও যদি আপনার দৃষ্টির উন্নতি না হয়, তাহলে সার্জারি করার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। এর কারণে দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে সার্জারির প্রয়োজন হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত আপনার চিকিৎসক ও আপনার উপর নির্ভর করছে।

চোখে ছানি পড়ার চিকিৎসা


–   চোখের ছানি কি প্রতিরোধ করা সম্ভব ?

–   চোখের ছানি প্রতিরোধ করার কোনো উপায় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যগ্রহণ, ইউ-ভি প্রোটেকশন (uv protection), ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে ছানির বৃদ্ধি রোধ করা যেতে পারে।

–   অসংখ্য ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব। অনেক কিছু জানতে পারলাম আজকে।

–   কয়েকটা হেলথ টিপস দিচ্ছি। কাজে লাগবে।


চোখে ছানি বিষয়ক হেলথ টিপস


ছানি প্রতিরোধের কোনো নির্দিষ্ট উপায় নেই। তবে কিছু বিষয় অনুসরণ করলে রোগটির ঝুঁকি কমানো যেতে পারে:

v  নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা: নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা হলে ছানি বা চোখের অন্যান্য রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কতো দিন পর পর আপনার চোখ পরীক্ষা করানো উচিৎ, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

v  ধূমপান ত্যাগ করুন: ঠিক কী উপায়ে ধূমপান ত্যাগ করা যায় সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঔষধ গ্রহণ, কাউন্সিলিং ও আরও কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে ধূমপান ত্যাগ করা সম্ভব।

v  অ্যালকোহল পরিত্যাগ: অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ চোখের ছানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

v  সানগ্লাস: সূর্য থেকে নির্গত অতি বেগুনী রশ্মি ছানি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই বাইরে চলাফেরার সময় সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

v  অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা: ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা ছানি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। তাই আপনার এসব রোগ থাকলে চিকিৎসা করান।

v  শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: আপনার শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকলে, তা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন। শরীরের ওজন অতিরিক্ত হলে, কম পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ এবং ব্যায়াম করার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রনে রাখুন।

v  বেশি পরিমাণে ফল ও শাকসবজি গ্রহণ: বেশি পরিমাণে ফল ও শাকসবজি গ্রহণ করলে শরীরের ভিটামিন ও নিউট্রিয়েন্টের অভাব দেখা দেয় না। এছাড়া ফল ও সবজিতে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যেগুলো চোখের জন্য উপকারী।

v  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ঔষধ আকারে সেবন করলে তা চোখের ছানি প্রতিরোধ করে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করলে ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

–   অসংখ্য ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব।

–   আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। আর টেস্টের রিপোর্টটা নিয়ে দেখা করবেন শীঘ্রই।

–   জ্বি আচ্ছা। আজ আসি তাহলে ডাক্তার সাহেব।

–   জ্বি আসুন।

রফিক বাবাকে নিয়ে সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসলো।



স্বাস্থ্য বিষয়ক এমন আরও ব্লগ পড়তে চাইলে চলে যান এনজাইম ব্লগ হোম পেইজে এখানে ক্লিক করে