“আমি তো বেশি খাওয়ার লোক না, শারীরিক পরিশ্রম একেবারে করি না এমনও তো না।”  তাহলে আমার কেন ডায়াবেটিস এর মত এই বিচ্ছিরি রোগ হলো? ডাক্তার বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া “বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি”-র বইটা হাতে নিয়ে চেম্বারের ওয়েটিং রুমে বসলো শাহেদ। পাতা ওল্টাতে চোখে পরলো ডায়াবেটিসের একটা সংজ্ঞা। 

ডায়াবেটিস কী?

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস  দেহের মেটাবলিজম (দেহের আভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া) সংক্রান্ত একটি ক্রনিক রোগ। ডায়াবেটিসের কারণে দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না। কোষের রাসায়নিক কার্যাবলীতে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইনসুলিনের সাহায্যে কোষে সুগার বা শর্করা পরিবাহিত হয় এবং এর উপস্থিতিতে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন বিশ্লেষিত হয়। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর দেহে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে প্রায় প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

বেশ কঠিন কথায় লেখা বিষয়, তবে এটা নিশ্চিত যে ইনসুলিনের অভাবে মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়। এটুকু ভালোভাবেই বুঝলো সে। নিজের এই রোগ হওয়ার আগে শাহেদের ধারণা ছিলো ডায়বিটিস তো একটা রোগ, এর আবার আলাদা ধরণ কী? কিন্তু বইয়ে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েক ধরণের ডায়াবেটিস  হতে পারে!

ডায়াবেটিসের ধরণসমূহঃ

ডায়াবেটিসের ধরণ  বিবরণ
টাইপ- ১ ডায়াবেটিস  অল্পবয়স্ক রোগীদের বেশি হয় এবং এক্ষেত্রে ইনসুলিন নিতে হয়।
টাইপ- ২ ডায়াবেটিস 
বয়স্ক রোগীদের বেশি হয় এবং সাধারণত স্থূলতার কারণে  দেখা দেয়।
জ্যাস্টেশনাল ডায়াবেটিস এই ডায়াবেটিস  প্রেগনেন্সি বা গর্ভাবস্থায় হয়ে থাকে।
সার্জিকালি ইনডিউসড ডায়াবেটিস অগ্ন্যাশয়ে অপারেশনের পর ইনসুলিন উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে এবং ব্যক্তি ডায়াবেটিস ে আক্রান্ত হতে পারে।
কেমিক্যালি ইনডিউসড ডায়াবেটিস নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ ব্যবহারের ফলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে স্টেরয়েডস, কর্টিসন ও প্রেডনিসন ব্যবহারের ফলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
এল-এ-ডি-এ (ল্যাটেন্ট অটোইমিউন ডায়াবেটিস  ইন এ্যাডাল্ট) বা টাইপ ১.৫ ডায়াবেটিস টাইপ ১ ডায়াবেটিস  ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে এল-এ-ডি-এতে রূপান্তরিত হয়। এই ধরণের ডায়াবেটিস  সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিদের বেশি হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিসের প্রথম টাইপটা পড়ে কেমন একটা ভয় ভয় করলো শাহেদের মনে। টেনেটুনে ৩০-এর কোঠায় তার বয়স। সারা দিন অফিস করে বাসায় যেয়ে খাওয়া আর শেষে ঘুম। এই হলো তার রুটিন। এখন এই ইনসুলিন যদি তার নিতে হয়, তাও রোজ !! কী হবে তখন?

সন্ধ্যার পরের এই সময়টাতে বন্ধুর চেম্বারে ভিড় বেশি নেই। বইটা পাশে নামিয়ে রেখে সামনে বড় করে টানানো বোর্ডটার সামনে এসে দাঁড়ালো সে। ডায়াবেটিসের কারণগুলো লেখা আছে সেখানে।

অগ্ন্যাশয়ে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস  হয়ে থাকে।

শাহেদ নিচের বিবরণটা অগ্নাশয়ের সাথে এর সম্পর্কটা খুঁজতে পড়লো,

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ

পাকস্থলির পেছনে ও নীচের দিকে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস অবস্থিত। অগ্ন্যাশয়ে অবস্থিত কোষগুলোকে বলা হয় আইলেট কোষ (Islet cells)।  খাদ্যগ্রহণ করলে এই কোষগুলো সাধারণত ইনসুলিন উৎপাদন করে। টাইপ- ১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ে আইলেট কোষের পরিমাণ কমে যায় এবং একই সাথে ইনসুলিন উৎপাদনের পরিমাণ একেবারেই হ্রাস পায়। ফলে দেহে সঠিকভাবে গ্লুকোজ ব্যবহৃত হয় না।

এই দুই ধরণের  ডায়াবেটিস ভিন্ন ভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। ঠিক কী কারণে টাইপ- ১ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় টাইপ- ১ ডায়াবেটিস জিনগত বা বংশগত কারনে হয়ে থাকে,তাছাড়া দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ভাইরাস সংক্রমণের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এবার মনের ভেতর জমে থাকা ধোঁয়াশা কিছুটা কাটতে শুরু করছে শাহেদের। তার বাবা-মা দুইজনেরই ডায়াবেটিস আছে। তাও বেশ কয়েক বছর ধরে। বংশগত কারণে তার মাঝে এটা আসতে পারে বলে মনে হচ্ছে এখন। এছাড়া আর কী কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে সেটা জানার একটা আগ্রহ অনুভব করলো শাহেদ। তাই নিচের লেখাগুলোও পড়তে লাগলো সে।

টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের এই ডায়াবেটিস  হয়ে থাকে। তবে টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  স্থূলতা, আদর্শ খাবারের অভাব ও কর্মবিমুখতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও অভ্যাসগত কারণে মানুষের রক্তে ফ্রি ফ্যাটি এসিড ও সাইটোকাইনস নামক উপাদান বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

কাজের চাপে পরে যখন যা পাই তাই খাই অভ্যাসটা মনে পরলো তার নিজের। মোটা তেমন না হলেও আগের থেকে ওজন বেড়েছে অনেকটা, কাজ সে করে কিন্তু সেটা চেয়ার টেবিলে বসে। নাহ!! এই কারণগুলোও ফেলে দেয়া যাচ্ছে না। বোর্ডের শেষের লেখাটা পরে নিলো শাহেদ এবার।

গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে যার ফলে দেহে ইনসুলিন উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, এ অবস্থায় জ্যাস্টেশনাল ডায়াবেটিস    দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় ইনসুলিনের মাত্রা স্বভাবতই কমে যায়।

চেম্বারে আসার আগে খুব বেশি কথা ফোনে জানায়নি শাহেদ। শুধু বলেছে ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষন ঘন ঘন পিপাসা পাওয়া আর ওজন বেড়ে যাওয়া এই কারনেই মূলত ডায়াবেটিস  চেক করিয়েছিল সে। কিন্তু রিপোর্টে তার ডায়াবেটিস  আছে জানতে পেরে অন্য কারো কাছে না যেয়ে তাই সরাসরি যোগাযোগ করে বন্ধু সিয়ামের সাথে।

ডাক্তার সিয়াম বন্ধুকে বসিয়ে আগে জানতে চায় বুঝতে পারছে না সে। শাহেদ তখন জানতে চায়, “এতো ধরনের ডায়াবেটিস  আছে সেটাই তো আমি জানতামই না। আমার কোনটা হলো সেটাই বা আমি বুঝবো কী করে?”  উত্তরে সিয়াম বেশ একটু বিস্তারিতভাবে ডায়াবেটিসের টাইপ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করতে থাকে শাহেদকে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকিপুর্ন বিষয়সমূহঃ

টাইপ- ১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ-

  • কোনো ব্যক্তির মা-বাবা, ভাইবোনের টাইপ -১ ডায়াবেটিস  থাকলে তার এ ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • কোনো ব্যক্তির ভাইরাসজনিত অসুস্থতা আক্রান্ত হলে এই ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • দেহে অটোঅ্যান্টিবডির উপস্থিতি টাইপ- ১ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  • খাদ্যাভ্যাস: দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কম থাকলে টাইপ- ১ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে এটি টাইপ- ১ ডায়াবেটিস  হওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রাখে না।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ-

  • শরীরে মেদের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিন উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • কর্মবিমুখতা ও কম পরিশ্রম করার ফলে শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে এবং টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • মা-বাবা, ভাই-বোনের টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  থাকলে এই ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে টাইপ- ২ ডায়াবেটিস ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওজন বাড়তে থাকে ও পরিশ্রমের পরিমাণ কমতে থাকে, একই সাথে পেশীর দৃঢ়তাও হ্রাস পেতে থাকে। তবে এই ডায়াবেটিস  শিশু ও কমবয়সীদেরও হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থাকালীন ডায়াবেটিস  (Gestational Diabetes) হলে টাইপ- ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আবার জন্মের সময় নবজাতকের ওজন ৯ পাউন্ড বা ৪ কিলোগ্রামের বেশি হলে পরবর্তীতে মায়ের টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (POS), যেসব মহিলার পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম রয়েছে তাদের এই ডায়াবেটিস  হওয়ার ঝুঁকি বেশি। পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম হলে মহিলাদের মাসিক (Period) অনিয়মিত হয়ে যায় এবং স্থূলতা, মাত্রারিক্ত চুল ও লোমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
  • রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ মিলিমিটার (mm Hg) এর বেশি হয় তাহলে এই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা: রক্তে এসকল চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে টাইপ- ২ ডায়াবেটিস  হতে পারে  

এবার ডায়াবেটিস  বিষয়ে শাহেদের ধারণা বেশ স্পষ্ট হলো। সাথে একটা প্রশ্নও এলো তার মাথায়। “আচ্ছা এই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কি সবার সমান?”

উত্তরে সিয়াম জানালো, লিঙ্গ ভেদে মহিলা ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব জাতির লোকেদের এই রোগ হবার সম্ভবনা সমান নয়। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগের সম্ভাবনা কিছুটা কম।

রিপোর্ট দেখে শাহেদের জন্যে কিছু প্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসার বিষয়ে লিখে দিলো বন্ধু ডাঃ সিয়াম। প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে শাহেদের কাছে মনে হলো আরো কিছু বিষয় আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। একবার সমস্যায় পরে জানতে আসার চাইতে বন্ধুকে জিজ্ঞেস করে নেয়াই ভাল হবে। সিয়ামকে সে জিজ্ঞেস করলো,

আসলে ঠিক কিভাবে ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়?

জবাবে সিয়াম জানালো, 

ডায়াবেটিস  আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, চর্বিহীন মাংস, মাছ, শস্যদানা থেকে প্রাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, চর্বিহীন দুগ্ধজাতীয় খাবার থাকতে হবে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। একই সাথে চিনিযুক্ত পানীয়, সোডা, ও মিষ্টি জাতীয় খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলতে হবে। 

Diabetes Info Enzaime
ডায়াবেটিস হলে যা মেনে চলবেন আর যা এড়িয়ে যাবেন

নিয়মিত অনুশীলন ও ব্যায়াম করার মাধ্যমে খুব সহজে ওজন ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই ডায়াবেটিস  আক্রান্ত রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে রোগীর ঘুমের ক্ষেত্রেও সুবিধা হয়। 

শারীরিক ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে

এবারে শাহেদের প্রশ্ন 

রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে গেলে সর্বপ্রথম কী করা উচিত হবে?

উত্তর এলো, 

রক্তে সুগারের পরিমাণ অতিমাত্রায় কমে যাওয়া একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। এ অবস্থায় রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে গেলে সর্বপ্রথম রোগীকে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার দিতে হবে। এ অবস্থায় রোগীকে ডায়েট ড্রিংক দেওয়া যাবে না, কেননা এসব ড্রিংকে কোনো রকম চিনি ব্যবহার করা হয় না।

সব শুনে আগে থেকে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করলেও নিয়মিত ডায়াবেটিস কে নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখার বিষয়ে শাহেদের বিভ্রান্তি রয়েই গিয়েছিলো। যদিও বইয়ে লেখা আছে অনেক কিছুই। তবু বন্ধুর মুখ থেকে একটু ভালোভাবে জেনে নেয়াটাই উচিৎ মনে করলো সে।

ডায়াবেটিস বিষয়ক হেলথ টিপসঃ

শাহেদের জন্যে বিশেষ কিছু হেলথ টিপস দিয়ে দিলো সিয়ামঃ

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
  • ধূমপান পরিহার করতে হবে।
  • খাবারের রুটিন ও সময় মেনে চলতে হবে।
  • রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগ ও কিডনির বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই সাথে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন চোখ, ত্বক ও পায়ের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খাদ্যগ্রহণের নিয়মনীতি ও সময় মেনে চললে এবং নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করলে খুব সহজে ডায়াবেটিস  নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস  বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

পুরো বিষয়টি বুঝে নিয়ে বন্ধুর সাথে আরো কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে বাড়ির পথ ধরলো শাহেদ। এখন সে জানে কী কারণে এই রোগ হয় আর কিভাবে ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রনে কিভাবে রাখতে হয়। 

স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের অন্যান্য ব্লগগুলো পড়তে ঘুরে আসুন আমাদের ব্লগসাইটের হোমপেজ থেকে।

ডায়াবেটিস সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব – ব্লাড সুগার (Blood Sugar) – কী, কেন হয়, লক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রনের জন্যে যা কিছু করতে পারেন ব্লগটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে

টাইপ ১ ডায়াবেটিস ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর পার্থক্য সেই সাথে ডায়াবেটিস থাকলে কোন রোগ হবার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন টাইপ ১ ডায়াবেটিস ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর পার্থক্য কী ? ডায়াবেটিস থাকলে কোন রোগ হবার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ? ব্লগটি।

ডায়াবেটিস জনিত কিডনির রোগ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ডায়াবেটিস জনিত কিডনির রোগ (Diabetic kidney disease) – নিয়ন্ত্রণ না করলে যে রোগ ঘটাতে পারে মৃত্যু পর্যন্ত ব্লগটি।

ব্লাড সুগার অথবা ডায়াবেটিস সম্পর্কে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুণ ইমেইল, ফেসবুক অথবা ফোন করুণ +০৯৬৩৯০০৬৬২২ নম্বরে।