ব্লগে ঢোকার পূর্বে পাঠকদের জন্য ডিমেনশিয়া আর আলঝাইমার্সের মধ্যে পার্থক্যটা একটু পরিষ্কার করে নিচ্ছি। এই দুটো টার্ম নিয়ে অনেকের মধ্যে একটু সংশয় রয়েছে।

ডিমেনশিয়া আর আলঝাইমার্সের মধ্যে পার্থক্য কী?

ডিমেনশিয়া হচ্ছে স্মৃতিভ্রংশতাজনিত মানসিক অসুস্থতা বোঝানোর জন্য একটি আমব্রেলা টার্ম অর্থাৎ একটি জেনেরিক টার্ম। বিভিন্ন ধরনের ডিমেনশিয়া রয়েছে। আর আলঝাইমার্স হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট রোগ।

এভাবে বলা যেতে পারে, সকল ডিমেনশিয়া আলিঝাইমার্স নয় তবে সকল আলঝাইমার্সই ডিমেনশিয়া।


এবার আমরা ব্লগে ঢুকে যাবো।



গত বেশ কিছু দিন ধরে চলতে থাকা এই ঘটনার উত্তর রবিন কিছুতেই পাচ্ছে না। বারবার মনে আসছে একটি শব্দ “ডিমেনশিয়া” বা স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়া।

রবিন কিছুটা দ্বিধার মধ্যেই পড়ে গেলো। কাকে অবিশ্বাস করবে? প্রায় এক যুগ ধরে কাজের মানুষ হিসেবে বাসায় থাকা রহিমা খালাকে? নাকি নিজের দাদুকে? প্রতিদিন এসে দাদুকে জিজ্ঞেস করলেই শুনতে হচ্ছে রহিমা খালা দাদুকে গোসল, খাওয়া দাওয়া করানো, ঔষধ খাওয়ানো ঠিকভাবে করে নাই। সময় মত খাবার চাইলেও নাকি দিচ্ছে না।

বাবা মা মারার যাবার পরে দাদুই রবিনকে মানুষ করেছে সেই ছোটোবেলা থেকে। দাদুই রবিনের সব। দাদুই রবিনের বাবা মা ভাই বোন। ফলে দাদুর অসুবিধা হচ্ছে এটা কোনোভাবেই নিতে পারে না। এ কারণেই আজকে বলা যায় রহিমা খালকে কিছুটা বকেই দিলো রবিন।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রহিমা খালা প্রতিবারই দাদুর এই দাবি অস্বীকার করছে। আজও করলো। কেঁদেই দিলো আজ। বললো তোমার কাছে মিছা কথা কেন কমু বাজান? আমি তোমার দাদুরে প্রতিদিন তুমি যেইভাবে কইছো সেইভাবেই যত্ন নেই। বুড়া মানুষ, হের মনে থাহে না। তুমি বিশ্বাস করো আমার কথা!

রবিন নিজেও জানে রহিলা খালার এমন করার কথা নয়। দাদুকে রহিমা খালা যত্ন করছে আজকে তো দুদিন আর চারদিন নয়। বছরের পর বছর। অথচ গত এক বছর ধরে দাদুর কাছে এই অভিযোগ শুনছে। মাস দুয়েক যাবত প্রায় প্রতিদিন। বিষয়টা স্বাভাবিক লাগলো না রবিনের কাছে। সিদ্ধান্ত নিল এই রহস্য ভেদ করতে হবে।

রহিমা খালাকে দুদিনের জন্য ছুটি দিয়ে বাসায় দাদুর রুমের সিসি ক্যামেরা ইন্সটল করালো রবিন। ছোটোখাটো একটা চাকরি করে রবিন। সিসিটিভির জন্য এই খরচও ওর জন্য বেশি। তবুও দাদুর মঙ্গলের কথা ভেবে অতিরিক্ত এই খরচ আর নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এই কাজটা করতে ও বাধ্যই হল। অফিসে বসে ও এখন দেখতে চায় প্রতিদিন কি দাদুর যত্ন ঠিকভাবে রহিমা খালা নিচ্ছে কিনা। দু একদিন দেখলেই বোঝা যাবে আসলে কী হচ্ছে। কে মিথ্যা বলছে!

দাদুর রুমে ক্যামেরা ইন্সটল করার পর আজকেই প্রথম দিন। ছুটি শেষে রহিমা খালাও বাসায় এসেছে। রবিন খুব আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে খালা কী করে দেখার জন্য।

বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলো রবিন যেভাবে যেভাবে খালাকে বলেছে ঠিক সেভাবে সেভাবেই দাদুকে খালা যত্ন করছে। দুপুর ঠিক ১২টার মধ্যে গোসল। একটার মধ্যে খাওয়া। ঔষধ খাওয়ানো। মাথার চুল বেঁধে দেয়া। ঘরের অন্যান্য কাজ করা থেকে শুরু করে কোনো কাজই সময়ের একটুও এদিক ওদিক হয়নি। দ্বিধায় পড়ে গেল। ‘দেখি দাদু কী বলে’, ভাবল রবিন।

সন্ধায় অফিস থেকে ফিরে দাদুকে জিজ্ঞেস করলো সব ঠিকঠাক ছিল কিনা সারাদিন।

দাদু বললো, ‘কই, রহিমা তো ঔষধ দিলো না দুপুরে। বললাম বাটা মাছ রান্না করতে তো ও রান্না করলো ইলিশ। আমি কি এত কাটা বাছতে পারি! সেজন্য খেলামই না দুপুরে’।

রবিনের প্রচন্ড মন খারাপ হলো। দাদু আর রহিমা খালা দুজনের জন্যই। দাদু এভাবে মিথ্যে কথা বলছে ভাবলেই কান্না পাচ্ছে আর রহিমা খালাকে সেদিন না জেনে ভুল বুঝে বকা দেয়ার জন্যও খুব খারাপ লাগছে।

রাতের খাবারের পর রহিমা খালার কাছে রবিন মাফ চেয়ে নিল। বললো, ‘খালা, আপনি কিছু মনে করবেন না। আমি আসলে জানতাম না দাদুর সমস্যাটা। আমি কাল পরশু একদিন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। দেখি এটা কী সমস্যা।“

রহিমা খালা বললো, “না বাজান, মাফ চাইবা কেন? আমি তো জানি তুমি তোমার দাদুর ভালর জন্যই ঐসব বলছিলা। তুমি ডাক্তারের কাছে নিয়া দেহো কী কয়।“

এরপরের এক সপ্তাহ রবিন অসম্ভব ব্যস্ত থাকায় দাদুকে নিয়ে  ডাক্তারের কাছে যেতে পারেনি। কোন ডাক্তারের কাছে নিবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় এনজাইম সিম্পটম চেকার ব্যবহার করে দাদুর সকল উপসর্গগুলো ইনপুট দিয়ে দেখলো যে দাদু সম্ভবত ডিমেনশিয়াতে ভুগছে। সিম্পটম চেকার টুলটি রবিনকে এই রোগের জন্য যেতে হবে এমন ডাক্তারদের লিস্টও দিলো। পরের সপ্তাহে রবিন এই লিস্ট থেকে বাছাই করে বিখ্যাত নিউরোলজিস্ট প্রফেসর ডাঃ মোঃ নিরাময় সরকারের কাছে গিয়ে দাদুর উপসর্গগুলো খুলে বললো।

সব শুনে ডাক্তার নিরাময় কিছু টেস্ট দিলেন আর বললেন আমার ধারণা আপনার  দাদু ডিমেনশিয়ায় ভুগছে। তার খুব সম্ভবত আলঝাইমার হয়েছে। টেস্টের রিপোর্টগুলো আসলে আমরা নিশ্চিত হতে পারবো।

রবিন জিজ্ঞেস করলো ডাক্তার সাহেব, ডিমেনশিয়া সম্পর্কে আমি আসলে তেমন কিছু জানি না। আমাকে যদি প্লিজ একটু খুলে বলতেন।

ডিমেনশিয়া কী?

–   সার্টেইনলি। ডিমেনশিয়ার বাঙলা অর্থ হল স্মৃতিভ্রংশতা। ডিমেনশিয়া (Dementia) হল এক ধরনের মস্তিষ্কের ব্যাধি যা স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। ডিমেনশিয়া মূলত কিছু নির্দিষ্ট মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত একটি টার্ম। মূলত, স্মৃতিভ্রংশ হওয়া, চিন্তা করার সক্ষমতা লোপ পাওয়াসহ অন্যান্য কিছু মানসিক সক্ষমতা লোপ পাওয়ার বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে ডিমেনশয়া বলা হয়।

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া আসলে কোনো রোগ নয় বরঞ্চ অনেকগুলো সমস্যার উপসর্গ। মস্তিষ্কের যে অংশগুলো শেখার জন্য, স্মৃতি বহন করার জন্য, সিদ্ধান্ত নেয়া এবং ভাষার জন্য ব্যবহৃত হয় সেগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা অসুস্থ হলে ডিমেনশিয়া হয়। আমরা আলঝাইমার রোগের নাম শুনেছি অনেকেই। আলঝাইমার ডিমেনশিয়া হবার সবচাইতে কমন কারণ।

ডিমেনশিয়া মূলত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায় এবং সাধারণত এটির কোনো চিকিৎসা নেই। তবে ডিমেনশিয়া সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে এবং লক্ষণ প্রকাশ পেলে বিশেষজ্ঞ নিউরোলজিস্টের পরামর্শ গ্রহণ করে সতর্কতা গ্রহণ পুর্বক ব্যবস্থা নিতে পারলে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

–   কিন্তু ডিমেনশিয়া হবার কারণ কী? আমি তো দাদুর যত্নে কোনো কম্প্রোমাইজ করিনি কখনও!

–   নিজেকে দায়ী করবেন না। বিজ্ঞানীদের মতে বংশ ও জীনগত কারণ, জীবন-যাপনের ধরন এবং পরিবেশগত কারনে এই রোগটি হতে পারে। জিনগত কারণে প্রায় ৫ শতাংশেরও কম লোকের এই রোগটি হয়ে থাকে। তবে জিনগত অবস্থা এই রোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পরোক্ষ কারণ হিসেবে কাজ করে।

ডিমেনশিয়া হবার কারণ

যদিও এই রোগের সঠিক কারণ এখনও জানা যায় নি, তবে এই রোগ যে মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে তা নিশ্চিত। এই রোগ ব্রেইন বা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি সাধন করে এবং তা নষ্ট করে ফেলে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর  মস্তিষ্কে সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় খুব কম স্নায়ু কোষ থাকে।

যত বেশি কোষ নষ্ট হয় ব্রেইন ততোই সংকুচিত হয়ে পরে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কোষ পরীক্ষা কলে আমরা দুই ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখি।

প্লাক (Plaques): প্রোটিন সমৃদ্ধ এই প্লাকগুলোকে বেটা-অ্যামাইলয়েড বলে যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর ক্ষতি করে ও তাদের নষ্ট করে ফেলে এবং কোষের সাথে কোষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। যদিও এই রোগের জন্য কেন মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়ে যায় তা জানা যায়নি, তবে মস্তিষ্কের কোষের বাহিরে অবস্থিত বেটা- অ্যামাইলয়েডের জন্য এটা হতে পারে।

ট্যাঙ্গেল বা মস্তিষ্কের কোষের বিকৃতি বা কুঁচকে যাওয়া (Tangles): মস্তিষ্কের কোষে পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় উপাদান একটি অভ্যন্তরীণ পরিবহন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। এই প্রক্রিয়ার জন্য এক ধরনের প্রোটিনের প্রয়োজন যা টাউ নামে পরিচিত। অ্যালঝাইমার রোগ হলে টাউ মস্তিষ্কের কোষের অভ্যন্তরে পেঁচিয়ে যায় এবং পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে। যার ফলে মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়ে যায়।

–   দাদুর ক্ষেত্রে যা যা দেখতে পাচ্ছি সেগুলোই কি সব নাকি আলঝাইমারের আরও কোনো উপসর্গ আছে?

–   মূলত স্মৃতিভ্রংশতা হলেও ডিমেনশিয়ার আরও কিছু উপসর্গ আছে।

ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক উপসর্গসমূহঃ

১. স্মৃতিশক্তি হ্রাস

২. পরিকল্পনা করা এবং সমস্যার সমাধানে জটিলতা

৩. দৈনন্দিন কাজকর্মে জটিলতা

৪. সময় এবং স্থান গুলিয়ে যাওয়া

৫. মনোনিবেশ করতে সমস্যা হওয়া

৬.  কথোপকথনে যথাযথ শব্দ খুঁজে না পাওয়া

৭. প্রায়শই জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা

৮. বাস্তব এবং নিজস্ব বিষয়ে খেয়ালি হয়ে পড়া

৯. সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া

১০. সহজে এবং ঘন ঘন মুড চেইঞ্জ হওয়া

–   পরিস্থিতি এত খারাপও হয় যে নিজের সন্তান, পরিবারের সদস্যদের পর্যন্ত চিনতে পাররে না। আপনাকে একটা কথা বলেছেন বা আপনি বলেছেন কিন্তু তিনি মনে করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কোথায় রাখেব মনে করতে পারেন না।

যে কারণগুলো ডিমেনশিয়া হবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়

ডিমেনশিয়া, স্মৃতি

বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধুমাত্র বার্ধক্যের জন্য এই রোগ হয় না, তবে ৬৫ বছরের পর এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যাদের বয়স ৮৫-র উর্ধ্বে তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

যাদের জিনগত কারণে এই রোগ হয় তাদের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের পর পরই এই রোগের লক্ষণগুলো দেখা যায়।

বংশ ও জিনগত কারণ (Family history and genetics): যদি পরিবারের ঘনিষ্ঠ কারো যেমন মা-বাবা, ভাই-বোনের এই রোগ থাকে তবে তার এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, তিনটি জিনের পরিবর্তনের জন্য এই রোগটি হয়ে থাকে। কিন্তু এটি খুব কম ক্ষেত্রে দেখা যায়।

লিঙ্গ (Sex): মহিলারা পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচে ফলে তাদের এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মানসিক দক্ষতা হ্রাস পাওয়া (Mild cognitive impairment): যাদের আগে থেকেই মানসিক দক্ষতা বা ক্ষমতা কম থাকে তাদের পরবর্তীতে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিন্তু তারা যে এই রোগে আক্রান্ত হবেই তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না।

মস্তিষ্কের আঘাত (Past head trauma): যারা পূর্বে কোনো ধরনের মানসিক আঘাত বা মাথায় আঘাত পেয়েছেন তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অভ্যাসগত বিষয় এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য (Lifestyle and heart health): এই রোগটি অভ্যাসগত বিষয়ের উপর নির্ভর করে এমন কোনো তথ্য বিজ্ঞানীদের জানা নেই। তবে স্বাস্থ্যগত কিছু বিষয় এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে যেমনঃ

·         নিয়মিত ব্যায়াম না করা।

·         ধূমপান।

·         উচ্চ রক্তচাপ।

·         রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি।

·         হোমোসিস্টিনের মাত্রা বৃদ্ধি (হোমোসিস্টিন=এক ধরনের অ্যামিনো এসিড)।

·         অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

·         ফলমূল ও শাক-সবজি কম খাওয়া

–   আলঝাইমার কি রক্তের মাধ্যমে ছড়াতে পারে? মানে এই রোগে আক্রান্ত কেউ সুস্থ কাউকে রক্ত দিলে কি সুস্থ ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে?

–   জ্বি না। রক্তের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না।

–   আমি এখন কী করতে পারি দাদুকে নিয়ে।

–   এখন পর্যন্ত এই রোগ সম্পূর্ণভিাবে প্রতিরোধ করার উপায় পাওয়া যায় নি। এখনও এর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তবে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে পারলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে বলে ধারণা করা হয়।

যেসব কারণে হৃদরোগ হয় সেসব কারনেই এই রোগ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিস। আপনার দাদুকে শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উদ্বুদ্ধ করুন। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার মাধ্যমে শরীর ও মন দুইই প্রফুল্ল রাখা সম্ভব, যা এই রোগ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে।

সার্বক্ষণিক একজন রাখুন যিনি আপনার দাদুর সেবা করবে। যেকোনো প্রয়োজনে সাথে সাথে সহায়তা পাবে। এছাড়া আর তেমন কোনো কিছু করার নেই আপাতত। টেস্টের রেজাল্ট আসলে তখন আমি সেই অনুযায়ী ঔষধ প্রেসক্রাইব করতে পারবো।

–   ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব। আমি টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে যোগাযোগ করবো। যদি দুদিন দেরী হয় তাহলে সমস্যা নেই তো? অফিসের কাজে আমি ঢাকার বাইরে যেতে পারি।

–   কোনো সমস্যা নেই। তবে যতদ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভালো। আপনি সেক্ষেত্রে একটি কাজ করতে পারেন। আমি Enzaime Ltd-এ টেলিমেডিসিন সেবা দেই। আপনি যেকোনো জায়গা থেকে আমার কন্সালটেশন নিতে পারেন। রিপোর্টও দেখাতে পারেন। জাস্ট ছবি তুলে আপলোড করলেই হবে।

–   কিন্তু আপনার পেমেন্টটা?

–   সেটাও কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ইউজ করে দিতে পারবেন এখান থেকেই।

–   বাহ! আমি তাহলে ডাক্তার সাহেব সেটাই করবো। টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসলেই আমি কনট্যাক্ট করবো করবো আপনার সাথে।

–   শিওর। ভালো থাকবেন।-   আল্লাহ হাফেজ ডাক্তার সাহেব।