গলস্টোন বা পিত্তথলির পাথর

গত বেশ কদিন যাবতই সুতপার এই সমস্যাটা হচ্ছিল। বলি, বুকে ব্যথা, বুক জ্বালা পোড়া করা। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে খেয়েও খুব একটা সুবিধা হচ্ছিল না।

তবে আজ সকাল থেকে আর বিষয়টাকে এভাবে কম গুরুত্ব দিতে পারা যাচ্ছে না। পেটের ব্যথায় বলা যায় একদম কাবু হয়ে গিয়েছিল সুতপা। অফিসও কামাই করতে হল। ফোন দিয়ে জানিয়ে দিল যে আজ আর কোনভাবেই ও আসতে পারছে না। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

সমস্যা হচ্ছে দু তিনবার বমি করার পরে এত দুর্বল লাগছিল যে সুতপার আর নিজে গিয়ে যে ডাক্তারের চেম্বারে দেখিয়ে আসবে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না।

ঠিক সেই সময়ই একটা ঘটনা ঘটলো যেটা সুতপার জন্য খুবই কাজে লেগে গেল।

সে মোবাইলটা হাতে নিয়েছিল কমলকে একবার কল দিবে ভেবে। হাতে নিতেই দেখে Enzaime Ltd থেকে একটা প্রমোশনাল এসএমএস এসেছে। কী মনে করে খুলতেই দেখলো অনলাইন টেলিমেডিসিন, ডাক্তারের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইত্যাদিসহ হেলথকেয়ার সম্পর্কিত সব ধরণের সেবা দিচ্ছে এই এনজাইম।

কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়ায় সুতপা ভাবলো একবার ট্রাই করেই দেখা যাক। এনজাইমের ওয়েবসাইট ঠিকানা https://enzaime.com/ আর কাস্টোমার কেয়ারের ফোন নম্বর +09639006622 এসএমএস-এ দেয়া ছিল।

পেটে এতটাই ব্যথা করছিল যে সাইট ঘুরে সময় নষ্ট করার মত সুযোগ সুতপার ছিল না। ও সরাসরি কল করলো সাপোর্ট নম্বরে।

অত্যন্ত মার্জিত একজন তরুন হ্যালো বলে সালাম দিল।

সালামের উত্তর দিয়ে সুতপা জিজ্ঞেস করলো, “আপনাদের কোনো মেডিসিনের ডাক্তারের সাথে কি ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে কথা বলা যাবে?”

  • অবশ্যই যাবে ম্যাম। আপনি আমাদের এনজাইম ওয়েবসাইট বা অ্যানড্রয়েড অ্যাপ Enzaime Patient care-এ গিয়ে এনজাইম ইমার্জেন্সি-তে ক্লিক করলেই আমাদের ইমার্জেন্সি ডক্টরের সাথে আপনি কথা বলতে পারবেন।
  • আমার এখন তীব্র পেটে ব্যথা হচ্ছে। আমি মনে হয় না এত কিছু করতে পারবো।
  • বুঝতে পেরেছি আমি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাকে আমাদের একজন ইমার্জেন্সি জেনারেল ফিজিশিয়ান কল করবে।

ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় কলটা এলো। প্রায় ১০ মিনিট কথা বলল সুতপার সাথে। ওকে আপাতত পেট ব্যথা কমানোর জন্য একটা ঔষধ আর একটা টেস্ট দ্রুত করে আবার তার সাথে কথা বলতে বলে ফোন রাখলো।

দুদিন পর সুতপা এনজাইম পেশেন্ট কেয়ার অ্যাপ (Enzaime Patient Care) প্লে স্টোর থেকে নামিয়ে সেই ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিল। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়ার সময় Report Show বক্সে ক্লিক করায় দেখলো ভিজিট ফি অর্ধেক হয়ে গেল। রিপোর্টের ছবিটা ভালো করে তুলে আপলোড করে দিল সুতপা।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেল সন্ধ্যা ৭টায়।

ভিডিও কলে এসে ডাক্তার রিপোর্টের কপিটা দেখে বললো,

যেটা সন্দেহ করেছিলাম তাই। আপনার গলব্লাডারে স্টোন মানে পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। এটা অপারেশন করে রিমুভ করতে হবে।

সুতপা চুপ করে থাকায় ডাক্তার বললো,আপনি ভয় পেয়ে যাবেন না আবার। অপারেশন শোনা গেলেও এখন এটা এত সহজ হয়ে গেছে যে এটাকে ভয় পাবার কিছুই নেই। একদম সহজ। যেদিন অপারেশন হবে সেদিনই বাসায় চলে আসবেন। এমনকি এখন লেজার ট্রিটমেন্টও হচ্ছে। কোনো অপারেশন ছাড়াই পাথর সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

সুতপা জিজ্ঞেস করলো,

সারাজীবন শুনেই এসেছি পিত্তথলির পাথরের কথা। আমাকে একটু প্লিজ বলবেন যে আসলে এই জিনিসটা কী?

অবশ্যই!

পিত্তথলির পাথর কী?

পিত্তথলি বা ইংরেজিতে যেটিকে গলব্লাডার বলে সেটি পেটের ডানদিকে ও লিভারের ঠিক নিচে অবস্থিত।

এটি দেখতে নাশপাতির মত এবং আকারে ছোট হয়ে থাকে। পিত্তথলিতে বাইল নামক এক ধরনের তরল থাকে যা ক্ষুদ্রান্ত্রে নিঃসৃত হয়। পিত্তথলিতে পাচক রস জমে শক্ত আকার ধারণ করলে তাকে গলস্টোন বা পিত্তথলির পাথর বলে।

পিত্তথলির পাথর আকারে বালুকণার সমান ছোট বা গলফ বলের সমান বড়ও হতে পারে। পিত্তথলিতে এক বা একাধিক পাথর হতে পারে।

পাথর অপসারণের সাধারণত এই অবস্থায় জন্য সার্জারির প্রয়োজন হয়। তবে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার পরও কোনো রকম লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা না দিলে এক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সমস্যা বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমনঃ কলেলিথিয়াসিস (Cholelithiasis), গল-স্টোন ডিজিজ (Gallstone Disease) এবং ক্যালকুলাস অব গল ব্ল্যাডার (Calculus Of Gallbladder)।

পিত্তথলিতে দুই ধরনের পাথর হয়:

  • কোলেস্টেরল গল-স্টোন (Cholesterol gallstones): পিত্তথলিতে এই ধরনের পাথর বেশি হয়ে থাকে। এটির রঙ হয় হলুদ। এটি কোলেস্টেরল ও অন্যান্য উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।

  • পিগমেন্ট গল-স্টোন (Pigment gallstones): বাইলে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে পিত্তথলিতে পাথর সৃষ্টি হয় যেটি গাঢ় বাদামী বা কালো রঙের হয়ে থাকে।

সুতপা জিজ্ঞেস করলো,

– কিন্তু পিত্তথলিতে পাথর হয় কেন?

পিত্তথলিতে পাথর হবার কারণ

পিত্তথলির পাথর হওয়ার সুনির্দিষ্টি কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে যে যে কারনে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সেগুলো হচ্ছেঃ

  • বাইলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেঃ সাধারণত লিভার হতে নিঃসৃত কোলেস্টেরল সম্পূর্ণভাবে পরিশোষণের জন্য বাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ উপস্থিত থাকে। কিন্তু স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক পরিমাণ কোলেস্টেরল নিঃসৃত হলে তা পরিশোষিত হতে পারে না এবং এই অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়।

  • বাইলে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলেঃ রক্তের লোহিত কণিকা ভেঙ্গে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। লিভার সিরোসিস, বিলিয়ারী ট্রাক্ট ইনফেকশন অথবা রক্তের অন্যান্য ত্রুটি দেখা দিলে দেহে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত বিলিরুবিন ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়।

  • পিত্তথলি সম্পূর্ণরূপে খালি না হলেঃ পিত্তথলি সম্পূর্ণরূপে খালি না হলে বাইল জমাট বেধে পাথর সৃষ্টি হয়।

পিত্তথলিতে পাথর হবার লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে সাধারণত যে লক্ষনগুলো আমরা দেখি তা হচ্ছেঃ

  • পেটে তীক্ষ্ণ ব্যথা (Sharp abdominal pain)
  • পেটের উপরের দিকে ব্যথা (Upper abdominal pain)
  • বমি বমি ভাব (Nausea)
  • বমি (Vomiting)
  • পিঠের ব্যথা (Back pain)
  • পেটের জ্বালাপোড়াসহ ব্যথা (Burning abdominal pain)
  • বুকের তীক্ষ্ণ ব্যথা (Sharp chest pain)
  • শরীরের পার্শ্বীয় ব্যথা (Side pain)
  • শরীরের নিম্নাংশে ব্যথা (Lower body pain)
  • বুক জ্বালা (Heartburn)
  • ঘাম হওয়া (Sweating)
  • খাবার উগরে আসা (Regurgitation)

এই পর্যন্ত বলার পরে সুতপা জিজ্ঞেস করলো,

– এটা কি সবারই হতে পারে? মানে আমারই কেন হল?

যে যে কারণে পিত্তথলির পাথর হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়

যে যে কারনে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ

  • লিঙ্গ। নারীদের মধ্যে এটি হবার সম্ভাবনা পুরুষদের চাইতে কিছুটা বেশি।
  • বয়স ৬০-এর বেশি হওয়া।
  • স্থূলতা।
  • গর্ভধারণ।
  • ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে।
  • নিয়মিত অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • কম আঁশযুক্ত খাদ্যগ্রহণ।
  • পরিবারের অন্য কোন সদস্যের একই সমস্যা থাকলে।
  • দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া।
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ঔষধ এবং
  • অ্যাস্ট্রোজেন আছে এমন ঔষধ সেবন করা।

ডাক্তার সাহেব, আমাকে কিছু পরামর্শ দিন যাতে করে আমি তো বটেই যাতে আমার পরিচিত কারোরও না হয়, সেইটুকু সাবধানতা যাতে বজায় রাখতে পারি, বলল সুতপা।

হেলথ টিপস্‌

এই রোগের ঝুঁকি কমানোর কিছু টিপস হচ্ছেঃ

  • নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া দাওয়া করতে হবে।
  • যদি আপনি ওজন কমাতে চান তবে ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন। ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে গেলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। প্রতি সপ্তাহে ১ বা ২ পাউন্ডের (০.৫-১ কিলোগ্রাম) এর বেশি কমানো যাবে না।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অতিরিক্ত মেদ ও স্থূলতার কারণে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব, সুতপা বললো।

– আপনাকে কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি। ব্যথাটা কমবে।

আর যত দ্রুত সম্ভব অপারেশনটা করে ফেলুন। আবারও বলছি, মোটেই ভয় পাবেন না। পিত্তথলির পাথরের অপারেশন এখন এই প্রযুক্তির যুগে একেবারেই ডালভাত। সো আমার পরামর্শ থাকবে, দ্রুত করে ফেলুন।

আপনি চাইলে আমাদের এনজাইমের ডাক্তারের কাছেই করতে পারেন। আমাদের অনেক ভালো সার্জন রয়েছেন।

– জ্বি, ঠিক আছে। ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব।

আপনাকেও ধন্যবাদ।





যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে বসে অনলাইনে ভিডিও কিংবা অডিও কলের মাধ্যমে সকল ধরণের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে আপনার পাশে আছে এনজাইম লিমিটেড। আপনার ডাক্তারকে খুঁজতে এখনই ক্লিক করুন এখানে!

এনজাইমের সকল ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন এখানে এবং ব্লগে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।