পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ডম, নারীদের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে কমন রোগগুলোর মধ্যে একটি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রত্যেক ১০ জন নারীর মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। অকালে চুল পড়ে যাওয়া, অবাঞ্চিত লোক, শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে বন্ধ্যাত্ব পিসিওএস এর লক্ষণ।

আমাদের আজকের ব্লগ পিসিওএস নিয়ে। পিসিওএস কী, পিসিওএস কেন হয়, পিসিওএস এর লক্ষণ, পিসিওএস এর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখানে আলোচিত হবে আশা করি পাঠক সামান্য হলেও উপকৃত হবেন।





ঘটনা সামান্যই। তবে এই সামান্য ঘটনাই তুতুলের জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছিল। একটু পেছনে গিয়ে দেখি চলুন বিস্তারিত।

তুতুলের কি পিসিওএস হয়েছে?

ওজনের জন্য তুতুলকে ছোটবেলা থেকেই সবার কাছে কৌতুকের বিষয় হতে হয়েছে। কিছুটা অভ্যস্তও হয়ে গেছে বলা যায় ও এই নিয়ে। হলে কী হবে, মন খারাপ হওয়া তো আর বন্ধ হয়নি। হয় না। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বন্ধুদের কাছে হাসির পাত্র হয়েছে।

সব সময় হেসে উড়িয়ে দিলেও মন খারাপ ঠিকই হত। বুঝতে দিতো না। কারণ ছোটবেলা থেকেই এই অভিজ্ঞতাগুলোর মুখোমুখি হতে হতে ও বুঝে গেছে যে এই ধরণের কৌতুকে রাগ হওয়া বা মন খারাপ প্রকাশ করা মানে হচ্ছে নিজেকে আরও দূর্বল করে তোলা। আরও বেশি মজা করবে সবাই। ফলে ও নিজেই মজায় অংশ নিয়েছে বন্ধুদের সাথে। কখনও নিজের মনের কষ্টের কথা বুঝতে দেয়নি কাউকে।

অনেক চেষ্টা করেছে ওজন কমানোর। কিন্তু খুব অল্প খেয়েও ওজনটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তার উপরে আরও কিছু শারীরিক সমস্যা থাকায় মানসিকভাবে ভেতরে ভেতরে সবসময়েই কিছুটা বিধ্বস্ত থাকে। মনের জোর ব্যবহার করে বাইরে নিজেকে হাসিখুশি আর শক্ত দেখালেও মানসিকভাবে খুব যে ভালো ও থাকে তা বলা যায় না।

তবে একটি ঘটনা ওকে মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙে ফেললো। বিষয় তেমন কিছু না। আবার অনেক কিছুই তুতুলের জন্য।

ওরা বান্দরবান যাবে এবার শীতে। ঠিক হল একটা মাইক্রো নেবে। যে কজন মাইক্রোতে যেতে পারবে তারা মাইক্রোতে আর বাকিরা বাসে যাবে। সে হিসেবে ব্যবস্থা করা হল।

ট্যুরের দিন সকালে সেজেগুজে ফুরফুরা মনে ক্যাম্পাসে চলে তুলতুল। মনে মনে অনেক কিছু ঠিক করেছে আনন্দ করার জন্য। অন্তত ৫টা গান ঠিক করে রেখেছে ও মাইক্রো বসে গাইবে। সবাই একসাথে হেরে গলায় গাইতে গাইতে পৌঁছে যাবে। কিছু কৌতুক মুখস্থ করেছে মাঝে মাঝে বলার জন্য। হই হুল্লোর হবে। খুব মজা করবে। রাতে ঘুম প্রায় হয়ইনি এই উত্তেজনায়!

তবে আরেকটা গোপন কারণও ছিল তুতুলের মাইক্রোতে যেতে চাওয়ার জন্য। ভাবলে লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে ও। মাহিনের প্রতি ওর একটা ভালো লাগা আছে। শুধু মাহিনই নয়, কেউই এটা জানে না। মাহিন মাইক্রোতে যাবে। মনে মনে উত্তেজিত হয়ে থাকার এটাও একটা কারণ।

মাইক্রোতে ক্যাম্পাস থেকে ওঠার জন্য সকালে টাইমমত পৌঁছে গেল। সবাই একে একে আসলো। সমস্যাটা বাধলো মাইক্রোতে উঠতে যাবার সময়। তুতুল উঠতে যেতেই রাফিন বলে উঠলো তুতুল বাসে যা। তুই মাইক্রোতে উঠলে তিনজনের জায়গা লাগবে। তারচেয়ে তুই বাসে যা।

যেকোনো কারণেই হোক রাফিনের বলার ভঙ্গিটা কর্কশ ছিল। তুতুলের চোখে পানি চলে এল প্রায়। গাড়িতে ওঠার জন্য প্রায় পা দিয়ে ফেলেছিল ও, সাথে সাথেই নামিয়ে নিয়ে জোর করে হেসে ফেলে বলল,

–       যাহ, শয়তানের দল, তোরা মাইক্রোতে যা গাদাগাদি করে। আমি বাসে শান্তিতে সিটে পা চেগিয়ে বসে।

কাউকে বুঝতে দিলো না ওর মনের অবস্থাটা। বুঝলো শুধু একজন। ওর খুব কাছের বন্ধু নিলু। ওকে কাল রাতে বলছিল মেসেঞ্জারে কোন কোন গানগুলো গাইবে। একমাত্র নিলুই জানে মাহিনের প্রতি ওর ভালো লাগার বিষয়টা। নিলু মাইক্রোতে বসে পড়েছিল। তুতুলকে এই কথা বলতেই ও বললো,

–       তুতুল আমিও যাবো তোর সাথে। মাইক্রো গাদাগাদি হচ্ছে। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তুতুল কিছু বললো না। কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে একবার চাইলো শুধু।

ওরা দুজন আর সাথে আরও তিনজন বাসে রওনা দিল বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। পুরো পথে খুব মন মরা হয়ে রইলো। নিলু খুব চেষ্টা করেছিল ওর মন ভালো করতে। খুব একটা সফল হয়নি। পুরো ট্যুরেই তুতুল আর স্বাভাবিক হতে পারেনি।

ট্যুর থেকে ফেরত আসার দিন ক্যাম্পাসে এসে যে যার বাসায় যখন চলে যাবে তখন নিলু আর তুতুল হাটছিল। নিলু ওকে বললো,

–       তুতুল, আমি জানি ট্যুরটা তুই এঞ্জয় করিসনি। কেন করিসনি তাও আমি জানি। আমার একটা রিকোয়েস্ট রাখবি?

–       কী? তুতুল বললো।

–       তোর কন্ডিশনটা আমি জানি। আমার বড় বোনের এই সমস্যা ছিল। প্রপার ট্রিটমেন্ট করালে এটা ভালো হয়ে যায়।

–       কিসের ট্রিটমেন্ট?

–       আমার ধারণা তোর পিসিওএস (PCOS), মানে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রম আছে।

–       সেটা কী?

–       একটা কী হরমোনাল সমস্যা যেন। তোর পিরিয়ড রেগ্যুলার হবার কথা না।

–       তুই কিভাবে জানলি? বিস্মিত হল তুতুল।

–       কারণ এই রোগে এটা হয়। আমার কথা শোন। আপু যে ডাক্তারের চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছিল তুই ওনার কাছে চল। আমি নিশ্চিত তোর এই সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।

–       হু। যাওয়া যায়।

–       তুই এক কাজ করিস। বাসায় যেয়ে প্লে স্টোর থেকে Enzaime Patient Care অ্যাপটা নিয়ে গাইনিকোলজিস্ট ডাঃ রেবেকার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিবি। আগামীকালের নিস। কাল আমাদের ক্লাস নেই। দুজন একসাথে যাবো চেম্বারে। ঠিক আছে?

–       Enzaime Patient Care আবার কী অ্যাপ?

–       ঐ হেলথকেয়ার রিলেটেড অ্যাপ। টেলিমেডিসিন, চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ইমার্জেন্সি ডাক্তার টাক্তার এইসব নিয়ে কাজ করে। দে আর কোয়াইট গুড। বিলিভ মি।

–       আচ্ছা। বাসায় যেয়ে করে আমি জানাবো নে।

–       আচ্ছা। আল্লাহ হাফেজ তাহলে। গেলাম রে!

–       আল্লাহ হাফেজ। পৌঁছে জানাস।

–       আচ্ছা।

তুতুলের চিকিৎসা

Enzaime Patient Care অ্যাপ থেকে নিলুর কথা মত ডাঃ রেবেকার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলো। উনি ধানমন্ডিতে বসেন। তুতুল থাকে আদাবর। নিলু মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের এদিকে। ওর জন্য সুবিধাই হয়েছে। রিকশায় ওকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারবে যাবার সময়। যদিও সাথে কেউ থাকলে ও রিকশায় খুবই সংকুচিত হয়ে যায় নিজের কাছেই। মোটা হওয়ায় পাশের জনের বসতে কষ্ট হয়। লজ্জায় ছোটো হয়ে যায়। যদিও মুখে কৌতুকের হাসি থাকে। বুঝতে দেয় না।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৫টায়। ঠিক ৫টাতেই পৌছলো ওরা চেম্বারে। ভাবল ডাক পড়তে পড়তে হয়ত ৬টা বাজবে। ওদের অবাক করে দিয়ে ঠিক ৫টা ৫-এই ওদের ডাক পড়ল চেম্বারে। সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকলো ওরা। হাসিখুশি মুখে ডাঃ রেবেকা বসে আছেন। মধ্য বয়স্ক। অত্যন্ত অমায়িক মানুষ। মা বা ছাড়া কথা বলেন না। জিজ্ঞেস করলেন,

–       কেমন আছো তোমরা মায়েরা? রোগী কে?

–       ভালো ম্যাম। সমস্যা আমার। আমি তুতুল।

–       তুতুল? বাহ! খুব কিউট নাম তো!

হাসলো তুতুল। ছোটোবেলা থেকেই এটা শুনে অভ্যস্ত ও।

–       তা কী সমস্যা বাবা তোমার, আমাকে খুলে বলো।

–       ওজনটাই আর কী। কমাতে পারছি না।

–       আর?

–       আমার পিরিয়ডটা খুবই অনিয়মিত। যখন হয় তখন প্রচুর ব্লিডিং হয়।

–       শরীরে লোম হয় অনাকাঙ্ক্ষিত আকারের? যেমন তোমার মুখে দেখতে পাচ্ছি?

–       জ্বি ম্যাম। হাতে পায়ে সবখানেই।

–       আচ্ছা। বুঝতে পেরেছি। আর কোনো সমস্যায় ভুগছো মা? ডিপ্রেশন হয়?

–       সব সময় যে তা না, তবে প্রায়ই ডিপ্রেসড থাকি। অ্যাপারেন্টলি কোনো কারণ ছাড়াই।

–       আচ্ছা। বুঝেছি।

–       সবকিছু মিলিয়ে খুব ভালো নেই আর কী।

–       খুবই স্বাভাবিক বাবা। আমি বুঝতে পেরেছি তোমার কী হয়েছে।

–       কী ম্যাম?

–       মেডিকেলের ভাষায় এটাকে পিসিওএস বলে। পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রম।

চকিতে নিলুর দিকে একবার তাকালো তুতুল। নিলুও তাকাল। নিলুর চোখে যেন লেখা, “বলেছিলাম না?”

–       ম্যাম কোনো পরীক্ষা ছাড়াই বুঝে ফেললেন?

–       এই সমস্যাটা মেয়েদের মধ্যে এত বেশি যে এখন উপসর্গ শুনেই আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু আমি শতভাগ নিশ্চিত হবার জন্য পরীক্ষাও দেবো। তবুও কিভাবে নিশ্চিত হলাম তা বোঝানোর জন্য আমি তোমাকে এই পিসিওএস-এর উপসর্গগুলো বলি। দেখো তুমি হয়ত বলোনি, কিন্তু শোনার পরে মনে পড়বেঃ

পিসিওএস এর লক্ষণ

পিসিওএস

·         বন্ধ্যাত্ব (Infertility)

·         প্রচুর পরিমানে চুল পড়া

·         পাতলা চুল

·         মাথা ব্যাথা

·         শরীরের যেকোন অংশে অবাঞ্ছিত লোম জন্মানো। (Hirsutism)

·         ডার্ক স্কিন বা অস্বাভাবিকভাবে ঘাড় বা চোয়ালের চামড়া কালো হয়ে যাওয়া

·         গলার স্বর ভারি হওয়া (Deep tone)

·         অপ্রত্যাশিত মাসিক (Unpredictable menstruation)

·         ওজন বৃদ্ধি (Weight gain)

·         পেলভিস বা শ্রোণীচক্রে ব্যথা হওয়া (Pelvic pain)

·         মাসিক না হওয়া (Absence of menstruation)

·         মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Heavy menstrual flow)

·         মাসিক ব্যতীত রক্তক্ষরণ (Intermenstrual Bleeding)

·         দীর্ঘায়িত মাসিক (Long menstrual periods)

·         মাসিকের সময় ব্যথা হওয়া (Painful menstruation)

·         মাংসপেশীর খিঁচুনি/টান (Cramps and spasms)

·         হঠাৎ গরম অনুভব করা (Hot flashes)

·         ব্রণ/পিমপল (Acne or pimples)

তুতুল দেখলো প্রায় সবই ওর সাথে মিলে যাচ্ছে।

জিজ্ঞেস করলো,

–       কিন্তু পিসিওএস কী ম্যাম? আর কেন হয় এটা?


পিসিওএস কী

নারীদেহে অ্যান্ড্রোজেনের পরিমাণ যখন পর্যাপ্ত মাত্রা অতিক্রম করে তখন ডিম্বাশয়ের চারপাশে প্রচুর সিস্ট জন্মায়। এর ফলে ডিম্বাশয় থেকে যে ডিম্বাণু বড় হয়ে ডিম বের হওয়ার কথা, তাতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং একসময় ডিম বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

পলি মানে অনেক বা বহু। অনেক সিস্ট হয় বলে এটির নাম পলিসিস্টিক। আর যেহেতু ডিম্বাশয় বা ওভারিতে এটি হয় সে কারণে এর নামকরণ হয় পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রম।


অ্যান্ড্রোজেন নামে একটা হরমোন আছে যেটা পুরুষের শরীরে থাকে। এটির কারণে পুরুষের যে শারীরিক বৈশিষ্ট সেটি প্রকাশিত হয়। এটিকে পুরুষ হরমোনও বলে। এই হরমোনটি নারীদের শরীরের সামান্য পরিমাণে থাকে। এই পরিমাণ যখন পর্যাপ্ত মাত্রা অতিক্রম করে তখন ডিম্বাশয়ের চারপাশে প্রচুর সিস্ট জন্মায়। ফলে ডিম্বাশয় থেকে যে ডিম্বাণু বড় হয়ে ডিম বের হওয়ার কথা, তাতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং একসময় ডিম বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

পিসিওএস কেন হয়?


–       নিশ্চিত কোনো কারণে এখনও জানা যায় নাই এখনও। ধরে নেয়া হয় এটা বংশগত কারণে হয়। তবে আরও কিছু কিছু বিষয়কে আপাত কারণ হিসেবে দেখা যায়। যেমনঃ

·         ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াঃ ইনসুলিন এক ধরণের হরমোন যা প্যানক্রিয়াসে তৈরি হয়। মানবদেহের শক্তির প্রধান উৎস গ্লুকোজ থেকে শক্তি উৎপাদনে ইনসুলিন দেহের কোষগুলোকে সাহায্য করে থাকে। পিসিওএস-এ আক্রান্ত প্রায় ৭০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় যায় তাদের দেহের কোষ ইনসুলিন প্রতিরোধী। এরমানে হলো, কোষ ইনসুলিন ব্যবহার করে না।

যেহেতু গ্লুকোজ ভেঙে শরীরের জন্য শক্তি উৎপাদন করতে হবে ফলে শরীরে ইনসুলিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অথচ এদিকে কোষ ইনসুলিন ব্যবহার করে না। এ কারণে ইনসুলিনের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

এই ধাপে এসে সমস্যার চলে আরেকদিকে। অধিক ইনসুলিন ওভারিকে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনকে অধিক পরিমাণে তৈরি করতে বলে। অধিক ইনসুলিনের প্রভাবে এন্ড্রোজেন উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ডিম্বাশয়ে স্বাভাবিকভাবে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় না। এবং এর কারণে ঘাড়, বগল, কনুই, গাল, হাঁটুর পিছনের ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ইনসুলিন Type 2 Diabetes-এরও কারণ।

·         ইনফ্লেমেশন (প্রদাহ):  রক্তের শ্বেতকণিকা বিভিন্ন উপাদানের সাহায্যে প্রদাহ সৃষ্টিকারী  ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মহিলাদের দেহে শ্বেতকণিকা এই ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না এবং এই কারণে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহ ডিম্বাশয়ের ক্ষতিসাধন করে থাকে ও ডিম্বাশয়ে অ্যান্ড্রোজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়।

পিসিওএস এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ

ডাঃ রেবেকা বলে যেতে থাকলেন,

–       আমি মনে করি এই সমস্যার ভয়াবহতা বুঝতে পিসিওএস হলে আর কী কী স্বাস্থ্য বিষয়ক ঝুঁকি রয়েছে সে বিষয়েও থাকা দরকার তোমাদের। যেমনঃ

·         বন্ধ্যাত্ব

·         গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা গর্ভাবস্থাজনিত উচ্চ রক্তচাপ

·         গর্ভপাত বা অকাল জন্ম

·         নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়েটোহেপাটাইটিস – লিভারে ফ্যাট জমা হওয়ার ফলে মারাত্মক প্রদাহ

·         মেটাবোলিক সিনড্রোম – উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ শর্করা এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড স্তরসহ বিভিন্ন সমস্যা যা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে

·         টাইপ 2 ডায়াবেটিস বা প্রিডিবিটিস

·         নিদ্রাহীনতা

·         হতাশা, উদ্বেগ এবং খাওয়ার ব্যাধি

·         অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত

·         জরায়ুর আস্তরণের ক্যান্সার (অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার)

তুতুল জিজ্ঞেস করলো,

–       ম্যাম তাহলে আমার এখনও করনীয় কী?

পিসিওএস এর চিকিৎসা

পিসিওএস ডায়েট চার্ট

–       তোমাকে দুটো কাজ করতে হবে। আমি ঔষধ লিখে দিচ্ছি। নিয়মিত ঔষধ খাবে। আর দ্বিতীয় কাজটি হচ্ছে, একজন ভালো ডায়েটিশিয়ানের সাথে দেখা করে তোমার কন্ডিশনের কথা বলে ডায়েট চার্ট বানিয়ে নেবে।

Enzaime এর ডায়েট প্ল্যানার ব্যবহার করতে পারো প্রাথমিকভাবে। সাদা ভাত, সাদা পাউরুটি, মাফিন, মিস্টি জাতীয় খাবার, পানীয়, রেড মিট, আলু, ময়দা, সয়াবিন তেল, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার বাদ দিয়ে নিজে নিজেই দেশী খাবার দিয়ে দৈনিক ১৫০০ ক্যালোরির একটা ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিতে পারো এখান থেকে ক্যালোরি মেপে।

একমাস ঔষধগুলো খেয়ে আর ডায়েট চার্ট অনুসরণ করার পরে যদি দেখো কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না তাহলে আবার আমার কাছে আসবে।

মনে রাখবে বাবা, তোমার জন্য ওজন মেইন্টেইন করাই হচ্ছে এখন সবচাইতে বড় কাজ, কেমন?

–       জ্বি ম্যাম।

–      আর নেক্সট টাইম তুমি চেম্বারে যদি আসতে সমস্যা হয় তাহলে Enzaime Patient Care অ্যাপ থেকে ভিডিও কলেও কনসালটেশন নিতে পারো।

–       আচ্ছা ম্যাম।

–       এবার যেতে পারো তাহলে বাবারা।

তুতুল আর নিলু সালাম দিয়ে চেম্বার থেকে বের হয়ে এলো।



স্বাস্থ্য বিষয়ক এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্লগের জন্য ব্লগের হোমপেইজে চলে যান এখানে ক্লিক করে