যাত্রাকালে বাসে বমি হওয়া, বিমানে বমি হওয়া অনেকেরই যেকোনো যাত্রার আনন্দকেই মাটি করে দেয়। শুধু যে নিজের জন্যই অস্বস্তিকর বিষয়টি তা নয়। সাথের মানুষ বা আশেপাশের যাত্রীর জন্যেও এটি বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এনজাইমের আজকের ব্লগে আমরা জানবো মোশন সিকনেস অর্থাৎ বাসে বমি কেন হয়, বাসে বমি হলে করনীয় কী।

এক নজরে চোখ বুলিয়ে নিতে ক্লিক করুন এখানে



রিহাম আর রিমির বিয়েটা হল আজকে পুরো এক সপ্তাহ। বিয়ের পরে হানিমুন কোথায় করবে সেটাও রিহাম ঠিক করে রেখেছে মনে মনে। এমনকি বুকিংও দিয়ে রেখেছে হোটেলে যদি আবার হানিমুন স্যুইটটা না পায়! গ্রিনলাইনে বাসের টিকিট পর্যন্ত কাটা। ও চাইছে রিমিকে কিছু না জানিয়ে একটা সারপ্রাইজ দিতে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের রিহাম। দেশের বাইরে ইচ্ছে করলে যেতে পারবে না তা নয়, তবে কষ্ট হয়ে যাবে। সেজন্য হানিমুনটা কক্সবাজারেই করবে বলে ঠিক করেছে। একে বিয়ে তার উপরে শীতের সময়। শীত আসলেই রিহাম পাগল হয়ে যায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য। শীতে ঘোরায় কষ্ট কম। ট্রিপ হয় উপভোগ্য। ফলে সারা বছর বলা যায় কিছুটা অপেক্ষাতেই থাকে শীতের জন্য।

কিন্তু যেদিন রাতে যাবে সেদিন রিমিকে এই কথা বলতেই ও বেঁকে বসলো। ও গাড়িতে করে কোথাও যাবে না।

রিহাম মনে কষ্টই পেলো বলা যায়। রিমি কি তাহলে বিমানের কথা বলতে চাইছে? বললো, “আমি তো বাসের টিকিট কেটে ফেলেছি, এখন একদম শেষ মুহূর্তে বিমানের টিকিট পাবো না মনে হয়। তাছাড়া টাকাগুলোও নষ্ট হবে।“

রিমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলো, “না না না না, আমি বাস প্লেইন কোনোটাতেই যাবো না। আমার এগুলোতে উঠলে বমি হয়।“

রিহাম কিছুটা রিলিফ পেলো এই ভেবে যে বৌ ওকে কিপটে বা ওর অর্থনৈতিক অবস্থাকে কটাক্ষ করেনি দেখে। বললো, বমি হবে না। তুমি চলো। বমি হলে করবা বমি। সমস্যা কী? পলিথিন নিয়ে নেবো।“

–       না না, আমার খুব কষ্ট হয়। খুউব! তুমি আমাকে পিঠে করে নিয়ে চলো। এই বলে রিমি খুব হাসতে লাগলো।

–       প্রয়োজনে তোমাকে আমি পিঠে করেই নিয়ে যাবো। কিন্তু যেতে তোমাকে হবেই!

–       বিশ্বাস করো, আমার খুব কষ্ট হয়।

–       ডাক্তার দেখিয়েছো কখনও?

–       উহু। আম্মুকেও দেখছি ছোটোবেলা থেকেই হয়। সেজন্যই স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছি।

–       উহু, ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে। দেখতে হবে আসলে সমস্যা কোথায় আর এর প্রতিকার কী। এবারের ট্রিপ থেকে এসেই ডাক্তার দেখাবো। ওকে?

–       আচ্ছা। অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও রাজি হলো রিমি।

রাতে দশটায় গাড়ি ওদের। পান্থপথ থেকে উঠবে। গাড়ি জ্যামের কারণে আসনে মিনিট দশেক দেরী হল। তবে ছেড়ে গেল ঠিক সময় মতই।

ওঠার মাত্র আধাঘন্টা পর থেকেই রিমি শুরু করলো বমি করা। অবিরামভাবে চলছে। ওর যে খুব কষ্ট হচ্ছে সেটা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। রিহামের একে রিমির জন্য খারাপ লাগছে আবার অন্যদিকে বাসের সবার কথা ভেবে খুব অস্বস্তিতেও পড়ে গেছে। প্রায় ১৫ মিনিটের মত অল্প অল্প বমি করতে করতে কিছুটা থামলো। পানি দিয়ে মুখ মুছিয়ে, পানি খাইয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো রিহাম। চেষ্টা করছে যাতে ঘুমিয়ে যায় রিমি। জার্নির মজা তো শেষই, যদি রিমির কষ্টটা কমে সেই চেষ্টা করতে লাগলো।

ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে আবার শুরু হলো বমি। গলায় প্রচন্ড শব্দ হচ্ছে এবার। রিহাম ভয়ই পেয়ে গেল। বাসের কেউ বিরক্ত হচ্ছে, কেউ সহানুভূতি নিয়ে তাকাচ্ছে। কারও আবার কোনো বিকার নেই। হয়ত এসব দেখে অভ্যস্ত সব সময়। পেছনের সিটের ওদেরও জার্নিটা শেষ। কারণ জানালা খোলা তো দূরের কথা, একটু শান্তিতে চোখও বুঝতে পারছে না বমির শব্দে। সব কিছু মিলিয়ে একদম বিশ্রি অবস্থার সৃষ্টি হলো। কী করবে তাও বুঝতে পারছে না।

হুট করেই মাথায় আসলো যে এনজাইম পেশেন্ট কেয়ার (Enzaime Patient Care) অ্যাপে জরুরি বিভাগ আছে। সাথে সাথে মোবাইলটা বের করে অ্যাপে লগিন করে এনজাইম ইমার্জেন্সি কেয়ারে চলে গেল। আগেও অ্যাপ থেকে সার্ভিস নেয়ায় ওর অ্যাকাউন্ট খোলা ছিল। ডাক্তার অনলাইনে আছে দেখতে পেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচল। রাত বাজে প্রায় ১২টা। ভিডিও করে চলে এলো ডাক্তার সাথে সাথেই। জিজ্ঞেস করলো কী সমস্যা।

রিহাম খুলে বলল সব। ডাক্তার বললো,

–       বুঝতে পেরেছি, আপনার স্ত্রীর মোশন সিকনেস আছে। এটা রোগ নয়। ভয় পাবেন না। এখন যেহেতু গাড়িতে আছে ফলে করার মত তেমন কিছু নেই তবে সুগন্ধি থাকলে নাকের কাছে ধরে রাখতে পারেন অথবা লেবু বা কমলা জাতীয় খাবার সাথে থাকলে নাকের কাছে ধরে রাখলে ভালো লাগবে। আর কোনোভাবেই বাসের ভেতরের দিক চেয়ে থাকা যাবে না। বাইরে তাকিয়ে থাকতে বলুন। বাইরের প্রকৃতি দেখতে বলুন। আর যেহেতু কক্সবাজার যাচ্ছেন, সময়ে মনে হচ্ছে কুমিল্লাতে আপনাদের থামাবে। সেখানে নেমে বমির ট্যাবলেট খাইয়ে দিন ওনাকে। আর খুব ভালো করে ফ্রেশ হবেন। নাক মুখ ধোবেন ভালো করেন।

–       জ্বি আচ্ছে।

–       আপাতত আর কিছু করার নেই। গুড লাক আপনাদের।

প্রেসক্রিপশন লিখে ডাক্তার লাইন কেটে দিলেন। ডাউনলোড করে নিলো প্রেসক্রিপশনটা রিহাম।

কুমিল্লায় পৌঁছালে বাস হোটেলের সামনে রাখলো। ২০ মিনিটের যাত্রা বিরতি। রিমিকে নিয়ে নামলো রিহাম। নেমে আগে হাত মুখ ধোয়ানোর চেষ্টা করলো। বাসের একজন ভদ্রমহিলা এসে খুব সাহায্য করলো এই সময়। মহিলাদের বাথরুমে নিয়ে যেয়ে ওকে ভালো করে ফ্রেস করিয়ে আনলো। ধন্যবাদ দিলো রিহাম। রিমিকে যখন নিয়ে গেছে তখন রিহাম ছুটলো ট্যাবলেট কিনতে। যেয়ে ঔষধ কিনে আনলো।

রিমি কফি খেতে চাইলো একটা। রিহাম আলাদা করে বলে একদম কড়া করে একটা কফি নিয়ে আসলো। ঢাকার চাইতে এখানে বেশ ঠান্ডা। বাতাসও আছে কিছুটা। অন্ধাকার হলেও পুরো হোটেল প্রাঙ্গনটা বেশ আলোকিত। ফ্রেশ হয়ে আর কফিটা খেতে রিমি বেশ চাঙা হয়ে উঠলো। বললো, “এখন বেশ ভাল লাগছে।“

রিহাম কিছুটা স্বস্তি পেলো। রিমির মনে জোর দেয়ার জন্য বললো, “আর দেখবা কিছু হবে না। বমি একবার ভালো করে হয়ে গেলে পরে আর হয় না। সো নো টেন্সন।“

–       আমার হয়। আগে অনেক হয়েছে।

–       কিন্তু আগে তো আর ঔষধ খাও নাই তাই না?

–       তা খাইনি।

–       সো, এবার হবে না।

কিন্তু বিধিবাম, কুমিল্লা ছেড়ে আসার ঠিক আধাঘন্টা পরেই রিমি আবার শুরু করলো। একইভাবে বমি। আগেরবারের মতই কষ্ট হচ্ছে ওর প্রচন্ড বোঝা যাচ্ছে। এত জোরে জোরে ভেতর টান দিচ্ছে যে ওর পিঠ বেঁকে যাচ্ছে একদম। সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছে ওর বোঝা যাচ্ছে পরিষ্কার।

হানিমুন তো হানিমুন, এখন রিহাম কক্সবাজার থেকে কিভাবে ঢাকায় এই মানুষ নিয়ে ফিরবে সেটা ভাবছে। এমনি যদি হতে থাকে আবারও ফেরার সময় তাহলে রিহাম পাগল হয়ে যাবে।

কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে দিয়ে এভাবেই চললো সারারাত। ভোরে কক্সবাজার নামার পর আবার সবঠিক হয়েও গেলো। হোটেলে ঢুকে একটা লম্বা ঘুম দিয়ে উঠলো ওরা যখন তখন প্রায় ১২টা বাজে। ফ্রেশ হয়ে বের হলো বিচের উদ্দেশ্যে। কিভাবে যে তিনটে দিন চলে গেলো বুঝতেই পারলো না। এই তিনদিনের মধ্যে রিহাম দুটো কাজ করেছে। বাসের টিকিট সৌভাগ্যবশত আরেকটি কাপলের কাছে বিক্রি করে দিতে পেরেছে। আর ওর এক বন্ধু ট্র্যাভেল কোম্পানির সাহায্যে এই টুরিস্ট সিজনের মধ্যেই কক্সবাজার থেকে ঢাকায় বাই এয়ারে ফেরার দুটো টিকিট ম্যানেজ করে ফেলেছে। দুটোই প্রায় অসম্ভব কাজ। তবে কিভাবে কিভাবে যেন হয়ে গেছে।

রিমিকে বুঝিয়েছে যে ওরা যদি প্লেইনে যায় তাহলেও রিমি বমি করবে কিন্তু সেটা খুব কম সময়ের জন্য। কারণ ঢাকায় পৌছতে মাত্র ঘন্টাখানেক লাগবে। আর বাসে গেলে লাগবে ১০ ঘন্টার মত। কষ্ট দশগুন। রিমির রাজি না হবার কোনো কারণ ছিল না।

রিহাম ঢাকায় এসে আর দেরী করেনি। এনজাইম ওয়েবসাইটে ঢুকে এনজাইমের ফাইন্ড ডক্টোর পেইজ থেকে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিলো। পরের দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট। রিমির এই সমস্যার সমাধান করতেই হবে।

চেম্বারে পৌঁছে সালাম দিয়ে রিহাম ভেতরে ঢুকলো রিমিকে নিয়ে।

–       ওয়ালাইকুম সালাম। জ্বি বলুন, কী সমস্যা।

সব খুলে বললো রিহাম।

–       এই সমস্যার নাম মোশন সিকনেস। এটা আসলে কোনো রোগ নয়।



বাসে বমি কেন হয়?

বাসে বমি

ধরুন, আপনি বাসে আছেন। আপনার শরীর অনুভব করছে যে আপনি গতিশীল অথচ চোখ বলছে আপনি স্থির। সামনে সিট স্থির। যাত্রীরা স্থির। সবই স্থির।

শরীরের এই গতি সম্পর্কে চোখ, অন্তঃকর্ণ ও ত্বকের পাঠানো তথ্য মস্তিষ্ক যখন সমন্বয় করতে পারে না তখন মস্তিষ্ক এটিকে শরীরে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি হিসেব ধরে নেয়। সেই বিষকে শরীর থেকে বের করে দেয়ার জন্য সে বমির উদ্রেক করে। এটিই বাসে বমি হবার কারণ। যেটিকে মোশন সিকনেসও বলে।



মোশন সিকনেস বা বাসে বমির লক্ষণ

মোসন সিকনেসের উপসর্গুলোর মধ্যে আছেঃ

·         ঘাম হওয়া

·         শরীর হঠাৎ খারাপ লাগা

·         অস্বস্তি

·         গা গোলানো অনুভূতি।

·         ঝিমুনি আসা

·         বমি বমি ভাব

·         বমি হওয়া

·         শরীর হঠাৎ কেঁপে কেঁপে ওঠা

·         শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা

·         মাথা ঘোরা

·         চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া

·         শারীরিক ভারসাম্য টলে যাওয়া, ভারসাম্যহীনতায় পড়ে যাওয়া

কাদের বেশি বাসে বমি হয়?

  • নারীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, ঋতুস্রাবের সময় এবং হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন এমন মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি প্রবল।
  • ২-১২ বছর বয়সী অনেক শিশুরাএ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর পরিমাণ কমতে থাকে।
  • যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের বেলায় এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, যেমন: কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, হাঁপানির ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং এমনকি আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপরোক্সেন জাতীয় সাধারণ কিছু ওষুধ যারা গ্রহণ করে, তাদের বেলায় এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
  • যাদের কানের সমস্যা রয়েছে, তারাও এ রোগে আক্রান্ত পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের অসুস্থতা খুব বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলে না। নিজে নিজে কিছু ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই রোগ তীব্র আকার ধারণ করে। যারা ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদেরকে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া এবং প্রয়োজনমতো শরীরের যত্ন নেয়া আবশ্যক। কান ও শরীরের ভারসাম্য এবং স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় কিভাবে রাখা যায় তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন।

বাসে বমি হলে করণীয় বা বাসে বমির সমাধান

নিজস্ব গাড়িতে ভ্রমণ করলে একটানা যাতায়াত না করে কিছুক্ষণ পরপর বিরতি দিয়ে দিয়ে যাত্রা সম্পন্ন করলে বমি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিরতির সময়ে কিছুক্ষণ খোলা হাওয়া উপভোগ করে আবার যাত্রা শুরু করতে পারেন।

চুইংগাম ও আদা মোশন সিকনেসের কারণে হওয়া বমি কমাতে সাহায্য করে। যাত্রাকালীন সময়ে চুইংগাম কিংবা আদা চিবোতে থাকলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

  • যাত্রার সময় ঘুমানোর অভ্যাস করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • কম ঝাঁকুনির সিটে বসাই উত্তম। বাসে ভ্রমণের সময় সামনের সিটে, জানালার ধারে বসলে আলো-বাতাস পাওয়া যাবে বেশি। ফলে শরীরে আরাম পাওয়া যাবে বেশি।
  • গাড়ির মধ্যে না তাকিয়ে দিগন্তের দিকে তাকালে ভালো।
  • উল্টোমুখী সিটে না বসাই ভালো।
  • ভ্রমণের পূর্বে তেল ও মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যাত্রার সময় মশলা বা তৈলাক্ত খাবার খেলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। (পড়ুন অ্যাসিডিট নিয়ে আমদের ব্লগ)
  • যাত্রাকালে বই না পড়াই ভালো।
  • তেলের গন্ধ যাদের সহ্য হয় না, তারা পছন্দের এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অন্যান্য যাত্রীর অবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
  • যাত্রাকালে পাশের যাত্রীর সাথে কথা না বলা এবং মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এড়িয়ে চলা উচিত।



বাসে বমির ক্ষেত্রে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মস্তিষ্ককে এই সিগন্যাল দেয়া যে শরীর গতিশীল রয়েছে। অর্থাৎ তথ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা। ফলে গাড়ির মধ্যে না তাকিয়ে দিগন্তের দিকে তাকানো এবং উল্টোমুখী সিটে না বসার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।



বাসে বমির ঔষধ

বাসে বমির জন্য যেকোনো ফার্মাসিতে বিভিন্ন ধরণের ঔষধ বিক্রি করা হয়। শারীরকভাবে অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে সেগুলো খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রায় সব ঔষধের মেয়াদই ৬-৮ ঘন্টা পর্যন্ত। ফলে এর থেকে অধিক সময় যদি বাসে থাকতে হয় সেক্ষেত্রে একাধিক ঔষধ খাওয়া যেতে পারে। তবে যেকোনো সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া সঠিক কাজ। এক্ষেত্রে একজন মেডিসিনের ডাক্তার আপনাকে সহায়তা করতে পারবেন।

পড়ুনঃ বাংলাদেশের ১০ জন সেরা মেডিসিন ডাক্তার কারা

সহজে ডাক্তার খুঁজে পেতে আপনার জন্য আছে এনজাইম
আমাদের সকল ব্লগ পড়ার জন্য চলে যান এনজাইম হোমপেইজে