মৃগী রোগ সম্পর্কে প্রচলিতভাবে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ মনে করে জ্বিনে ভূতে ধরেছে আর কেউ মনে করে মানসিক সমস্যা। কখনও কখনও ভুল চিকিৎসা বা পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে রোগীর হয়ে যেতে পারে অনেক বড় ক্ষতি। রোগটি সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধিই পারে এই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করতে। সেই লক্ষেই আমাদের আজকেই ব্লগ মৃগী রোগ কী? মৃগী রোগ কেন হয়? আশা করি এই রোগ সম্পর্কিত পাঠকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এখানে পরিষ্কার হয়ে যাবে।




বাসার কাছাকাছি এসে রায়হান দেখলো ওদের বাড়ির গেটের সামনে একটা জটলা। একজন আরেকজনের উপরে উঠে পরে রাস্তায় পড়ে থাকা কী যেন দেখতে চেষ্টা করছে। কিছুটা কৌতুহল জাগলেও শরীর ক্লান্ত থাকায় বাসার উঠতে যাচ্ছিল। সিড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় শুনতে পেলো একজন বলছে,

“চামড়ার স্যান্ডেল দে মুখে। খাঁটি চামড়ার হইতে হইবো।“

রায়হান বুঝতে পারলো সাথেই সাথেই যে কী হয়েছে। ইচ্ছা না করলেও পেশায় ডাক্তার হওয়ায় একটা প্রফেশনাল দায়িত্ববোধ থেকেই সিড়ি থেকে ফিরে জটলাটার দিকে এগিয়ে গেল। গিয়ে দেখলো দেশের সমস্ত ডাক্তাররা জড়ো হয়েছে। পেশার কেউ রিকশাচালক, কেউ কাঠের দোকানের মিস্ত্রি, কেউ দোকানদার আবার কেউ কেউ কোনো কাজ নেই, মজা দেখছে। তবে সবার কমন পরিচয় হচ্ছে, এরা সকলেই চিকিৎসায় অত্যন্ত বিজ্ঞ। সবাই নিশ্চিতভাবেই জানে যে এখানে কী করতে হবে।

যাই হোক, জটলা ঠেলে ও মাঝখানে যেয়ে দেখলো একজন অল্পবয়স্ক যুবক, বয়স ২৫ কি ২৬ হবে। রাস্তায় পড়ে আছে। খিঁচুনি হচ্ছে প্রচন্ড। সাথে সাথেই রায়হানের ডাক্তার সত্ত্বা জেগে উঠলো।

আশেপাশের মানুষজনের চোখে রেখে ঠান্ডা মাথায় বলল, “আমি একজন ডাক্তার। এটা আমার বাড়ি। আপনারা দূরে সড়ে দাঁড়ান। আমাকে রোগী দেখতে দেন।“

এলাকার অতি উৎসাহী এক মুরুব্বি বলল, “এইসব কিছু লাগবো না। পায়ের জুতাটা চামড়ার হইলে খুইল ওর নাকের সামনে ধরো, ঠিক হইয়া যাইবো।“

পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলো, “মুখের সামনে নিলে হইবো না মুরুব্বি, জোর কইরা দাঁত খুইলা মুখে ঢুইকাইয়া দিতে হইবো।“

ছেলেটার ঝুঁকির কথা ভেবে রায়হান ধমক দিয়ে বলে উঠলো, “চুপ! দূরে যান! যান বলছি! নইলে পিটিয়ে এখান থেকে ভাগাবো!”

ওর বলার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল যে তাতে লোকগুলো ভরকে গেল। তার উপরে ওদের দশাসই ষন্ডা মার্কা দারোয়ান এসে ঠেলে লোকজন পিছিয়ে দিল।

ফাঁকা জায়গা পেয়ে রায়হান এবার প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে বসলো।



মৃগী রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা

মৃগী রোগ

১. খিঁচুনি চলাকালে রোগীকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাওয়ার জন্য চারপাশ ফাঁকা রাখতে হবে। এই সময়ে রোগীকে থামানোর চেষ্টা করা যাবে না। কিছুক্ষণ পরে এমনিতেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

২. যেকোনো একদিকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে।

৩. কোনভাবেই জোর করে মুখ খোলার চেষ্টা করা যাবে না।

৪. রোগী কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই সময়ের মধ্যে মুখে স্যান্ডেল বা অন্য যেকোনো ধরণের বস্তু দেয়া যাবে না।

৫। রোগীর খিঁচুনি বন্ধ হয়ে গেলে এবং জ্ঞান ফিরে আসলে সে হয়ত কিছু মনে করতে পারবে না। ধাতস্থ হবার জন্য তাকে সময় দিন। তার পাশে থেকে তাকে মনোবল যোগান।



রায়হান ছেলেটির শার্টের কলার আলগা করে প্রথমেই ডানদিকে কাৎ করিয়ে ওকে শুইয়ে দিলো। দারোয়ানকে বলে একটা পাখা এনে বাতাস করাতে থাকলো। খিঁচুনি শেষ হয়ে ছেলেটি ততক্ষণে অজ্ঞান হয়ে গেছে।

মিনিট দুই পর জ্ঞান ফিরে আসলো। মুখ দিয়ে লালা পড়ছিল। চোখ খুলে অনেক কষ্টে উঠে বসতে চেষ্টা করতেই রায়হান বললো, আপনি শুয়েই থাকুন। আরেকটু সময় দিন।

ছেলেটি এতটাই দূর্বল ছিল যে কোনো কথা না বলে চুপ করে চোখ বুজে সেভাবেই শুয়ে রইলো। মিনিট দশ পরে রায়হান ছেলেটাকে উঠিয়ে ওর বাসায় নিয়ে আসলো। দোতলায় বাসা। তাও উঠে ছেলেটার অনেক কষ্ট হয়ে গেলো।

বাসায় রায়হান একাই থাকে। রায়হান বিপত্নিক। বাচ্চাকাচ্চাও নেই। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন। বাবার দেয়া বাড়ি। নির্বিবাদে চলে যাচ্ছে জীবন।

ছেলেটাকে বিছায় শুইয়ে বললো আপনি একটু রেস্ট নিন। আমি আসছি। এই বলে ও গোসলে ঢুকে গেল। সারাদিনের ক্লান্তি গোসলে ধুয়ে মুছে মিনিট পনেরো পর রুমে ঢুকে দেখলো ছেলেটা এখনও শুয়েই আছে। ও আসতেই উঠে বসলো। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।

রায়হান বললো, আমি জানি এখন আপনার কিছু মনে পড়বে না। আপনি রেস্ট করুন। কিছুক্ষণ পর সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি খাবারের ব্যবস্থা করছি। ছেলেটি শুন্য চোখে চেয়ে থাকলো। চারপাশের পরিস্থিতি বুঝতে উঠতে পারছে না সেটা চেহারার স্পষ্ট।

রান্নার ব্যবস্থা করে ঘরে এসে দেখলো ছেলেটি বাথরুমে যেয়ে ফ্রেস ট্রেস হয়ে বের হয়েছে। রায়হানকে দেখেই উঠে দাঁড়ালো। বললো, “আমি খুব দুঃখিত। আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম। আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন।“

– আরে না, না। কোনো কষ্ট নাই। আমি এ ধরণের কেইস আগেও হ্যান্ডল করেছি। পেশার কারণে করতে হয়েছে। কোনো কষ্ট নেই। চলুন একসাথে খেতে বসি। রান্না করা হয়ে গেছে আমার।

খেতে বসে রায়হান জিজ্ঞেস করলো,

– আপনার সমস্যাটা কবে থেকে?

– এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হলো।

– আচ্ছা, আচ্ছা, তারমানে প্রাথমিক পর্যায়ের আর কী।

– আমি ঠিক জানি না এটা কী। সবাই মৃগী বলে।

– হ্যাঁ এটা মৃগীই। তবে আপনি যতটা কুন্ঠিত হয়ে বলছেন এটা কুন্ঠিত হবার মত কিছু নয়। আরও পাঁচটা দশটা রোগের মত এটাও একটা রোগ।

– লজ্জা পেতে হয় আর কী।

– স্বীকার করছি অবশ্য এটা। আমাদের সামাজিক সমস্যা আর কী। এখানে নিজেকে নিজের শক্ত করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

– তা ঠিক। যদিও আমি আসলে জানিই না এটা কী আসলে! এর জন্যে কি আমি নিজেই দায়ী??

মৃগী রোগ কী?

মৃগী রোগ কী

এপিলেপসি (Epilepsy) বা মৃগী রোগ একটি স্নায়বিক ব্যাধি (Neurological Disorder)। সবচেয়ে বেশি হওয়া স্নায়বিক রোগের মধ্যে মৃগী হচ্ছে চতুর্থ রোগ। এটি একটি ক্রনিক অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী রোগ। সারা বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি মানুষের মৃগী রয়েছে। এর অধিকাংশই, প্রায় ৮০ ভাগের বসবাস মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে।

এর লক্ষণগুলো হল আকস্মিক খিঁচুনি বা মূর্চ্ছা যাওয়া বা হঠাৎ বারবার স্নায়ুর সমস্যা হওয়া। মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক তড়িৎ প্রবাহের ফলে এটি দেখা দেয়। এর প্রধান লক্ষণ হল খিঁচুনি হওয়া। কখনও কখনও মৃগী রোগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার খিঁচুনি দেখা দেয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে শুধু একবারই খিঁচুনি দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ রোগের কোনো নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায় না।

– আপনি একবার দেখেই বুঝে ফেললেন আমার মৃগী? ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো।

– আসলে তা নয়। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত নই এখনও পর্যন্ত। তবে আমি নিজে একজন নিউরোলজির ডাক্তার হওয়ায় নিজ অভিজ্ঞতা থেকে আন্দাজ করেছি। সম্পুর্ণ নিশ্চয়তার জন্য ইইজি, মস্তিষ্কের স্ক্যান আর কিছু রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে। তবে সাধারণভাবে মৃগী রোগের উপসর্গগুলো হচ্ছেঃ

মৃগী রোগের লক্ষণ

  • খিঁচুনি (Seizures)
  • মাথা ব্যথা(Headache)
  • অস্বাভাবিক অনৈচ্ছিক নড়াচড়া (Abnormal involuntary movements)
  • স্মৃতিশক্তির সমস্যা (Disturbance of Memory)
  • কথা বলতে কষ্ট হওয়া (Difficulty speaking)
  • শারীরিক বৃদ্ধির অভাব (Lack of growth)
  • সারা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া (Stiffness all over)
  • চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া (Eye moves abnormally)
  • মাংসপেশীর দুর্বলতা (Muscle weakness)

– কিন্তু এই রোগটি কেন হয়?

মৃগী রোগ কেন হয়?

বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই মৃগী রোগের নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায় না। তবে যেসব কারণে এ রোগ হতে পারে সেগুলি হল-

  • কিছু মৃগী রোগ জিনগত কারণে হয়ে থাকে।  নির্দিষ্ট কিছু জিন একজন ব্যক্তিকে পরিবেশের কোনো উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি হয়ে থাকে।
  • মাথায় কোনো কারণে আঘাত পাওয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে।
  • ব্রেন টিউমার বা স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হলে মৃগী রোগ হতে পারে। যাদের বয়স ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের ক্ষেত্রে মৃগী রোগের প্রধান কারণ হল স্ট্রোক।
  • মেনিনজাইটিস (Meningitis), AIDS এবং ভাইরাল হেপাটাইটিসের (Viral encephalitis) মতো সংক্রামক রোগের কারণে মৃগী রোগ হতে পারে।
  • জন্মের পূর্বে শিশুদের মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। মাতৃগর্ভে বিভিন্ন কারণে যেমন অক্সিজেনের অভাব, পুষ্টির অভাব বা মায়ের ইনফেকশনের জন্য শিশুদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে শিশুদের মৃগী রোগ দেখা দিতে পারে।
  • অটিজম (Autism) বা নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস্ (Neurofibromatosis) শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, ফলে এই দু’পি রোগের কারণে মৃগী রোগ দেখা দিতে পারে।

কারণগুলোর কথা বলা শেষ করেই রায়হান বললো, কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে এই রোগের।

– কী রকম? জিজ্ঞেস করলো ছেলেটি।



মৃগী রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ

নির্দিষ্ট কিছু কারণে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যেমন-

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শৈশবের প্রথমদিকে এবং ৬০ বছরের পরে মৃগী রোগ দেখা দেয়। তবে এটি যেকোনো বয়সে হয়ে থাকে।
  • পরিবারের কোনো সদস্য মৃগী রোগে আক্রান্ত হলে অন্যান্য সদস্যের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • মাথায় কোনো কারণে আঘাত পাওয়ার ফলে এ রোগ হতে পারে।
  • যেসব রোগ মস্তিষ্কের ক্ষতি করে থাকে (স্ট্রোক ও অন্যান্য রক্তনালীর সমস্যা) সেগুলি মৃগী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ সমস্যা এড়াতে অবশ্যই ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
  • বয়স্কদের মধ্যে ডিমেনশিয়া (Dementia) বা স্মৃতিভ্রংশ মৃগী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • Meningitis এর মত যেসব ইনফেকশন মস্তিষ্কে বা স্পাইনাল কর্ডে (Spinal cord) প্রদাহ/জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে সেগুলি এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • মাঝে মাঝে অতিরিক্ত জ্বরের কারণে শিশুদের  খিঁচুনি হয়ে থাকে। যদিও এই খিঁচুনির ফলে সাধারণত শিশুদের মৃগী রোগ হয় না, তবে কারও দীর্ঘ সময়ের জন্য খিঁচুনি হলে,  স্নায়ুতন্ত্রের অন্যান্য সমস্যা থাকলে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের মৃগী রোগ থাকলে শিশুদের এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো,এপিলেপ্সি মস্তিষ্কে কিভাবে ক্ষতি করে?

– আমাদের মস্তিষ্কে নানান ধরণের স্নায়ু রয়েছে। এ স্নায়ুগুলোর মধ্যে আকস্মিকভাবে তড়িৎ প্রবাহের ফলে মৃগী রোগ দেখা দেয়। এই অবস্থায় রোগী হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভব করে, জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ও স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। তবে এ রোগ কোনো ধরণের পূর্বাভাস ছাড়াও দেখা দিতে পারে।

মৃগী কি জন্মগত?

মৃগী রোগ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তির বংশধরদের মধ্যে এ রোগ দেখা না গেলেও তার এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

– বুঝতে পেরেছি।

– আপনাকে আসলে কী ধলে যে ধন্যবাদ দেবো। আজ অনেক ঝামেলা হয়ে গেল আপনার।

– আরে না না। আপনি বরঞ্চ ঘুমান এখন। সকালে উঠলে একদম ফ্রেস লাগবে। সব ঠিক হয়ে যাবে।

– জ্বি আচ্ছা। শুভরাত্রি রায়হান ভাই।

– শুভরাত্রী।

নিউরোলজিসহ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও ব্লগের জন্য এনজাইমের ব্লগ ঘুরে আসুন এখানে ক্লিক করে

এনজাইম ব্লগ Enzaime Ltd কর্তৃক পরিচালিত। Enzaime Ltd বাঙলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।