“ নাম না জানা রোগ হলেও কোন রোগকেই  সাধারণ বলা চলে না। ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স তেমনি রোগ যার নাম হয়তো অনেকেই জানেন না। তবে এটা মনে রাখবেন রোগ মানেই শারীরিক এমন কোন সমস্যা যা আমাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থাকে কিছুটা হলেও বাধাপ্রাপ্ত করে। তবে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া রোগগুলোকে সাধারণবা অসাধারন কোন রোগের মাঝেই ফেলা যায় না। দুরারোগ্য সেই সব রোগের বিষয়ে আমাদের বেশির ভাগের কিছুটা হলেও ধারনা থাকে। তবে এমন কিছু রোগ আছে যেগুলোর কারণে মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে না পরলেও স্বাভাবিক জীবনের খুব সাধারণ ব্যাপারো অস্বাভাবিক অবস্থায় চলে যেতে পারে। “ 

এটুকু বলে সামনে বসে থাকা দর্শকদের দিকে তাকালেন ডাঃ শরীফ। “ফুড অ্যান্ড ফুডি” নামের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ফেস্টিভ্যালের একটা অংশ ছিলো খাবার এবং খাবার সংক্রান্ত রোগের বিষয়ে তাদের কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে অবহিত করা। এনজাইম বাংলাদেশ নামের হেলথ প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে সেখানে এই ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনের এই ফেস্টিভ্যালের আজ দ্বিতীয় দিনে তেমনই একটি খাবার হজম সংক্রান্ত রোগের বিষয়ে বলতে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিলো ডাঃ শরীফ শিকদারকে।

প্রথম ভেবেছিলেন খুব জটিল আর মারাত্মক কোন রোগ নিয়ে কথা বলবেন তিনি। তার অভিজ্ঞতার আর বয়সের হিসেবে এমন ভাবাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফেস্টিভ্যালে আসার দিন দুয়েক আগে হঠাৎ বিদেশি একটা জার্নালে  ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) বিষয়ের একটি লেখা পড়েন। রোগ হিসেবে খুব ভয়াবহ ধরনের কিছু না হলেও এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ থাকতে পারে ভেবেই এই বিষয়ে কথা বলার সিধান্ত নেন ডাঃ শরীফ।

সামান্য একটু বিরতির পরে আবারো বলা শুরু করলেন তিনি। “ আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় তেমনই একটি রোগ। এই রোগের ফলে মানুষ দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার হজম করতে পারে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance)। “

এবার তিনি নিজের পেছনে থাকা জায়ান্ট প্রজেক্টর স্ক্রিনে ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) এর সাধারণ বিবরণ এনে মুখে সেই কথাগুলোকে সহজ করে ভেঙ্গে বলতে শুরু করলেন।

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স কী?

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স

দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানুষের শরীরে হজমের জন্যে সাধারণত ল্যাক্টেজ নামের এক ধরনের এনজাইম (Lactase enzyme) থাকার দরকার পরে। কিন্তু এই এনজাইম শরীরে উৎপাদন না হলে অথবা এর অভাব দেখা দিলে ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) রোগ হয়ে থাকে। যদিও একে বিপদজ্জন রোগ বলা যাবে না, কিন্তু আমাদের অনেক খাবারে যেহেতু দুধের ব্যবহার রয়েছে সে ক্ষেত্রে কারো ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স সমস্যা থাকলে খাবার হজম জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সামনে বসে থাকা দর্শকদের চোখে আগ্রহ দেখা গেলেও এই ব্যাপারটা যে তাদের খুব বেশি জানা নেই সেটা তাদের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে। এমনটাই অবশ্য হওয়ার কথা। ডাঃ শরীফ জানেন সেটা। তাই তিনি দেরী না করে ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন।

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স এর প্রকারভেদঃ

ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স রোগকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-

১. প্রাইমারী ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স (Primary lactose intolerance) / বয়স বাড়ার কারণে যে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হয়:

মানব শিশুর জন্মের পর থেকে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে থাকে। এই দুধ শিশুদের পুষ্টির প্রধান উৎস। সাধারণত মানব শিশুদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে ল্যাক্টেজ এনজাইম উৎপাদিত হয়। শিশুদের খাদ্যে বৈচিত্র্য আসলে এবং ধীরে ধীরে দুধের উপর নির্ভরশীলতা কমে গেলে প্রাকৃতিক ভাবেই সাধারণত শরীরে ল্যাক্টেজের উৎপাদন মাত্রা কমে যায় অথবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।ল্যাক্টেজের মাত্রার এই কমে যাওয়াকেই ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হতে পারে।

২. সেকেন্ডারি ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স (Secondary lactose intolerance) / শারীরিক অসুস্থতা বা ঘাতের ফলে যে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হয়:

ক্ষুদ্রান্ত্রের (Small intestine) অসুখ, অপারেশন কিংবা কোনো ধরনের আঘাতের ফলে ল্যাক্টেজ উৎপাদনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যার ফলে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হবার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়। সিলিয়াক ডিজিজ (Celiac disease), পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ (Gastroenteritis), ক্রোনস ডিজিজ (Crohn’s disease) ইত্যাদি রোগের কারণে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স দেখা দিতে পারে।

৩. কনজেনিটাল ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স (Congenital lactose intolerance) / জন্মগত কারণ যে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হয়:

কিছু কিছু শিশুর শরীরে ল্যাক্টেজ এনজাইমের চরম ঘাটতি থাকে। তবে এই সমস্যাটি বিরল । বংশানুক্রমে চলতে থাকা এই রোগকে অটোসোমাল রিসেসিভ (Autosomal recessive) বলা হয়। মা ও বাবা উভয়ের জিনের ত্রুটিপূর্ণ গঠনের কারণে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে।  কনজেনিটাল ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সে আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর থেকে ডায়রিয়ায় ভোগে, কারণ মায়ের বুকের দুধের ল্যাক্টোজ তারা হজম করতে পারে না। এই শিশুদের জন্য ল্যাক্টোজমুক্ত শিশু খাদ্য প্রয়োজন পরে।

রোগের ধরনের সাথে কিছুটা আলোর আভাস পেতে শুরু করলো দর্শকেরা। যদিও ডাঃ শরীফের এখনো অনেক কিছুই জানানোর আছে তাদের কিন্তু তবু তিনি এখন থেকেই দর্শকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন। মানুষের আগ্রহ না থাকলে সে বিষয়ে আলোচনা করার কোন অর্থ নেই, সেটা ডাঃ শরীফ তার অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন।

বেশ কয়জন দর্শক হাত তোলায় একে একে সবার প্রশ্নের উত্তর দেবার কথা তিনি সবাইকে জানালেন। প্রথম প্রশ্নটি এলো সামনের সারিতে বসে থাকা ফুড অ্যান্ড ফুডির একজন অল্পবয়স্ক কর্মীর কাছ থেকে।

রেজওয়ানা নামের সেই কর্মী জানতে চাইলো, “স্যার ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) রোগের প্রকারভেদ থেকে কিছুটা ধারনা পাওয়া গেলেও, এই রোগের কারণগুলো যদি একটু বিস্তারিত ভাবে জানাতেন তাহলে আমাদের জন্যে খুব ভালো হতো।”

যদিও কারণগুলো তার আলোচনার তালিকায় এমনিও ছিলো কিন্তু সামনে থেকে প্রশ্ন আসায় তিনি খুশিই হলেন। প্রশ্নের জবাবে ডাঃ শরীফ জানালেন,

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স হবার কারণসমূহঃ

মূলত ক্ষুদ্রান্ত্রে ল্যাক্টেজ এনজাইমের পরিমাণ কমে গেলে সাধারণত ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সের লক্ষণ মানুষের শরীরে প্রকাশ পাওয়া শুরু করে। সাধারণত, ক্ষুদ্রান্ত্রের আবরণী কোষ থেকে ল্যাক্টেজ এনজাইম উৎপাদিত হয়। এই ল্যাক্টেজ এনজাইম দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ল্যাক্টোজ অণুকে (molecule) দুই ধরনের শর্করায় –  গ্লুকোজ এবং গ্যালাক্টোজে (Glucose and galactose ) পরিণত করে। যেন এই শর্করা রক্তে শোষিত হতে পারে। কিন্তু কোন রোগীর শরীরে ল্যাক্টোজ এনজাইমের উৎপাদন না হলে অথবা পরিমাণে কম উৎপাদিত হলে খাদ্যের ল্যাক্টোজ অপাচ্য (Indigestible) অবস্থায় কোলনে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত থাকা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সাথে এই খাবারগুলোর সংযোগ হয় আর এ কারণে অনেকের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে গ্যাস, পেট ফোলা এবং ডায়রিয়া ইতাদি সমস্যা হয়ে থাকে।

প্রশ্নের উত্তর শেষ করে পরবর্তী প্রশ্নের আগে নতুন একটি স্লাইড স্ক্রিনে দেখালেন ডাঃ শরীফ। ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) রোগের লক্ষনগুলো সেখানে লেখা রয়েছে।

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স এর লক্ষনসমূহঃ

• ডায়রিয়া (Diarrhea)
• পেটের জ্বালাপোড়াসহ ব্যথা (Burning abdominal pain)
• মাথা ব্যথা(Headache)
• পেটে তীক্ষ্ণ ব্যথা (Sharp abdominal pain)
• নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া (Nasal congestion)
• শ্বাসকষ্ট (Shortness of breath)
• কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
• মাংসেপশীতে ব্যথা (Muscle pain)
• বায়ু নির্গত হওয়া (Flatulence)
• ওজন বৃদ্ধি (Weight gain)
• পুরুষত্বহীনতা (Impotence)
• মাংসপেশীর খিঁচুনি/টান (Cramps and spasms)

এই রোগের লক্ষনের বিষয়ে অল্প কথায় ব্যাখ্যা করলেন তিনি।

আলোচনা শেষ করে আবারো দর্শকের প্রশ্ন নেয়ার জন্যে প্রস্তুত হলেন তিনি। এবারের প্রশ্ন এলো ফেস্টিভালে আসা সৌমিক নামের একজনের কাছ থেকে। তার প্রশ্ন ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স (Lactose intolerance) রোগের কারণের সাথে সম্পর্কিত। সে জিজ্ঞাস করলো,

কি কি কারণে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়?

প্রশ্নের জন্যে সৌমিক কে ধন্যবাদ দিয়ে উত্তরে চলে গেলেন ডাঃ শরীফ।

  • মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সাধারণত শরীরে ল্যাক্টেজ এনজাইম উৎপাদন কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই রোগ হতে পারে। শিশু এবং তরুণদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক ভাবে খুব কম হয়ে থাকে
  • জাতি ভেদে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স হবার সম্ভবনা কম বেশি হতে পারে। কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান, হিস্প্যানিক এবং আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে এই রোগ হবার সম্ভবনা বেশি দেখা যায়।
  • প্রি ম্যাচিউর বার্থ  (Premature birth) / অকালে জন্ম হবার কারণে শিশুদের এই রোগ দেখা দিতে পারে। কারণ এই এনজাইম ভ্রূণ বৃদ্ধির তৃতীয় স্তরের শেষদিকে তৈরি হয়। তাই প্রি ম্যাচিউর বার্থের ক্ষেত্রে অনেক শিশুর শরীরে পরিপূর্ণ ভাবে এই এনজাইম উৎপাদিত হয় না।  
  • ক্ষুদ্রান্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি, সিলিয়াক (Celiac) এবং ক্রোনস ডিজিজ (Crohn’s disease) ছাড়াও ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স  হবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।
  • ক্যান্সারের চিকিৎসায় তলপেটে রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপি দিলে অনেক সময় অন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয় যার ফলে ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এরপরের দুটো বেশ গোছানো প্রশ্ন এলো মাঝের সারির মধ্য বয়স্ক একজন ভদ্রলোকের কাছ থেকে। মোর্শেদ নামের সেই ব্যক্তির প্রথম প্রশ্ন,

ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্স রোগ কি চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব কি না।

এই প্রশ্নের উত্তর ডাঃ শরীফ উত্তর দিলেন,

ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সে রোগের সরাসরি কোন প্রতিকারের বিষয়ে এখনো জানা যায় না। তবে এই সমস্যা কমানোর জন্যে ল্যাক্টেজ এনজাইম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে ল্যাক্টোজ হজম সহজতর হতে পারে। দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের আগে ল্যাক্টেজ এনজাইম সাপ্লিমেন্ট খেলে এ জাতীয় খাবার হজম সহজ হতে পারে।

তবে দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে এনে এই রোগের এই অবস্থার উন্নতি করা যেতে পারে। তবে সেই সাথে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর বিকল্প খাদ্য উৎস অবশ্যই খুঁজে বের করে নিতে হবে।

মোর্শেদ সাহেবের দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো,

ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সে উপসর্গ সাধারণ দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের কত সময় পর দেখা দিতে পারে?

বেশ গোছানো এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন শুনে খুশি হলেন ডাঃ শরীফ। নিজের অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের আলোকে তিনি জানালেন,

রোগীভেদে এই সময়ের পরিবর্তন হতে পারে তবে সাধারণত খাবার গ্রহণের আধা ঘন্টা থেকে দুই ঘণ্টার মাঝে অথবা খাবার গ্রহণের পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার যে কোনো সময়ে এই রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন উত্তর পর্ব শেষ হবার পরে তার আলোচনার সর্ব শেষ প্রসঙ্গে চলে এলেন ডাঃ শরীফ।  ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সে আক্রান্ত রোগীদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার না খেলে অন্য কি ধরনের খাবার খেতে হবে সেই বিষয়ে তিনি সাধারণ একটি ধারনা দিলেন।

ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স
দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারসমূহ

ল্যাক্টোজ ইন্টলারেন্সে সমস্যা থাকলে অন্য যে ধরনের খাবার খাওয়া যেতে পারেঃ

যেহেতু দুধ ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস উৎস হিসেবে বলা হয়ে থাকে। তাই দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করা বাদ দিলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীভেদে অন্য যে সব খাবারে ক্যালসিয়াম রয়েছে সেগুলোর খাওয়া যেতে পারে। যেমন:

  • ব্রোকলি (Broccoli)
  • দুধের পরিপূরক (Complementary) যেমন – সয়া মিল্ক এবং রাইস মিল্ক।
  • কমলালেবু (Oranges)
  • মটরশুঁটি (Peas)
  • রেউচিনি (Reuchini)
  • পালংশাক (Spinach)

দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বাদ দিলে শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে হবে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যদিও খুব বেশি দেখা যায় না তারপরও

  • ডিম
  • যকৃত
  • দই

এ খাবারগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন ডি রয়েছে। সূর্যের রশ্মি থেকে মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। সেখান থেকে শরীরের জন্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যেতে পারে

আলোচনা শেষ করার পর সামনে বসে থাকা দর্শকদের মুখে বিভ্রান্তি ভাব দূর হতে এবং নতুন কোন বিষয়ে জানতে পারার উচ্ছ্বাস দেখতে পেলেন ডাঃ শরীফ। ঠিক এই কারনেই আজকের আলোচনার জন্যে এই বিষয়টি বেছে নিয়েছিলেন তিনি। দর্শকরা অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে যাওয়া শুরু করলে ডাঃ শরিফও মঞ্চ থেকে নেমে নিজের বিশ্রাম কক্ষের দিকে রওনা হলেন।

স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের অন্যান্য ব্লগগুলো পড়তে ঘুরে আসুন আমাদের ব্লগসাইটের হোমপেজ থেকে।