বেশ রাত হয়েছে। ফেইসবুকেই ছিল আসমা। প্রতিদিনের মতই নির্ঘুম রাত কাটছে। অনেকদিন ধরেই হচ্ছে এমন। এক ঘনিষ্ট বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি দেখছিল। গায়ে হলুদ, বিয়ে আর রিসেপশনের প্রোগ্রামের ছবি। খুবই সুন্দর সুন্দর সব ছবি।

আসমা যায়নি। অনেকবার বলা সত্ত্বেও যায়নি। আসলে ইচ্ছে করে না। সবকিছুর উপর থেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে ও। সেই ঘটনার পর থেকে মানুষজন এড়িয়ে চলতেই স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করে। জীবনের অনেক কিছুর উপরেই আগ্রহ হারিয়েছে ও এখন। কোনো কিছুই আর তেমন আগ্রহী করে না ওকে।

ঘটনাটি আসমার জীবনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। অবশ্য শুধু আসমা নয়, এটি যেকোনো নারীর জীবনেই পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

ঘটনাটি জানতে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে।

আসমা সমস্যাটি প্রথম লক্ষ্য করে একদিন গোসলের সময়। গোসল শেষে জামা কাপর পরার সময় হঠাৎ বাঁ বুকে একটা পিন্ডের মতন কিছু অনুভব করে। খুব একটা খেয়াল করেনি প্রথমে। তারও প্রায় বেশ কিছুদিন পর বুকের ঐ পাশের বৃন্ত থেকে তরল জাতীয় কিছু বের হয়। তখন কিছুটা ভয়ই পেয়ে যায় ও।

এক বান্ধবির সাথে আলাপ করার পর ও বললো, “তুই দেরি করিস না একদমই। এই লক্ষণগুলো ভাল নয়। এটা ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণের মধ্যে পড়ে। দ্রুত ডাক্তার দেখা।“

আসমা কিছুটা চিন্তিত হল। কাকে দেখাবো জিজ্ঞেস করতেই ওর বান্ধবী মৌলি এনজাইম (Enzaime)-এর কথা বলে। ও জানায় যে এনজাইম (Enzaime Ltd) এ অনেক ডাক্তার আছে যারা বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন এর মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়। আবার অনলাইনে তাদের চেম্বারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও নেয়া যায়।

–   প্লে স্টোর থেকে এনজাইম পেশেন্ট কেয়ার অ্যাপ (Enzaime Patient Care App) নামে অ্যাপটি ডাউনলোড করেনে। এরপরে রেজিস্ট্রেশন করে অনলাইনেই ডাক্তারের সিরিয়াল নিবি।

চাইলে চেম্বারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা টেলিমেডিসিনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টও নিতে পারিস। যেটা সুবিধা হয় তোর জন্য। তুই চাইলে সাথে আমিও যেতে পারি।

বান্ধবীর কথা মত এনজাইম অ্যাপটা নামিয়ে সেদিনই ও একজন গাইনি ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিলো। দুদিন পর সিরিয়াল পড়েছে। আসমা ভাবলো মৌলিকেও সাথে নিয়ে যাবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সময়ের একটু আগেই চলে গেলো ও। সাথে মৌলি। উৎকন্ঠায় ছিল বেশ কিছুটা।

চেম্বারে ঢুকে সালাম দিল আসমা।

ডাক্তার ফারিয়া মেহতাব মধ্যবয়স্ক। বেশ নামকরা ডাক্তার। অভিজ্ঞ। সৌম্য চেহারা। একজন নরম মনের মানুষ মনে হয় প্রথম দেখাতেই।

–   বসো মা। নাম কী তোমার?

–   জ্বি আসমা, ম্যাম। ও মৌলি। আমার বান্ধবী।

–   সমস্যা কার?

–   জ্বি আমার। আসমা বললো।

–   বলো তো মা কী হয়েছে তোমার।

–   আমার বাম পাশের বুকে কদিন আগে পিন্ডের মত কিছু একটা অনুভব করি। প্রথমে খুব একটা নজর দেয়া হয়নি।

তার কদিন পর নিপল থেকে লিকুইড জাতীয় কিছু বের হয় মাঝে মাঝে। বুকে কিছুটা ব্যাথাও হয়।

–   আচ্ছা। আর কোনো সমস্যা কি দেখা যাচ্ছে?

–   জ্বি না, উল্লেখযোগ্য আর তেমন কিছু না।

–   তুমি জামাটা খুলে ফেলো মা। আমি একটু চেক করবো।

আসমা উশখুশ করছিল এই কথায়। দেখতে পেয়ে ডাক্তার মেহতাব বললেন,

–   অস্বস্তিবোধ করো না। আমি তোমার মায়ের মত।

এ কথা বলে মৌলিকে পেছনে আড়াল করে সামনে এসে দাঁড়ালেন ডাক্তার মেহতাব। বুকে হাত দেয়ার আগে আসমাকে বললেন,

–   আমি এখন তোমার বুকে হাত দিয়ে তুমি যে পিন্ডের কথা বলেছো সেটা পরীক্ষা করবো। ঠিকাছে?

–   জ্বি আচ্ছা।

ডাক্তার মেহতাব কিছুটা সময় নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে কয়েকবার জিজ্ঞেস করলেন আসমা ব্যথা পাচ্ছে কিনা। আসাম হ্যাঁ সূচক মাথা ঝাঁকাল।

ডাক্তার বললেন,

–   ঠিক আছে মা। আমার কাজ শেষ। তুমি এবার ফ্রি হয়ে বসতে পারো।

বলা শুরু করলেন,

–   প্রথম কথা হচ্ছে তোমার লক্ষণগুলো আসলে কী মানে করছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্য আমি কয়েকটা টেস্ট দিচ্ছি। এগুলো দ্রুত করে আমার সাথে দেখা করবে। তারপরে বিস্তারিত আলাপ করবো কেমন?

আর ব্যথা কি বেশী হয় না সহ্য করতে পারো?

–   খুব যে বেশী তা নয় তবে বেশ অস্বস্তি হয় আর কী।

–   বুঝতে পেরেছি। সেক্ষেত্রে আমি কোনো ঔষধ দিচ্ছি না। পেইন কিলার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তুমি দ্রুত টেস্টের রিপোর্টগুলো নিয়ে আমার সাথে দেখা করো। এরপরে পরবর্তী করনীয় নিয়ে আলাপ করবো আমরা, কেমন?

–   জ্বি আচ্ছা।

ডাক্তার মেহতাব যে টেস্টগুলো দিয়েছিলেন সেগুলোর রিপোর্ট আসতে তিনদিন লেগে গেল। পরদিনই আসমা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে তার চেম্বারে গেলেন। সেদিনও সাথে মৌলি ছিল।

রিপোর্টগুলো দেখে ডাক্তার মেহতাবের মুখ কিছুটা ভারী হয়ে গেল বলে মনে হল।

তিনি বললেন,

–   আসমা, আমি রিপোর্টগুলো দেখলাম। খুব ভালো সংবাদ দিতে পারছি না মা।

আসমার বুকটা ধক করে উঠলো। চুপ করে অপেক্ষা করছে ডাক্তার কী বলেন শোনার জন্য।

–   তোমার ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে এবং এটা বেশ দীর্ঘদিন ধরেই আছে।

আসমার চোখে পানি টলমল করছে। আপ্রান চেষ্টা করছে না কাঁদার জন্য। কিছু চোখ কথা শুনতে চাইছে না।

মৌলি আসমাকে জড়িয়ে ধরলো। মৌলিও কাঁদছে। ডাক্তার মেহতাবের মুখটাও বিষন্ন লাগছে খুব।

ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার কী?

আসমা কোনো কথা বলতে পারছে না। মৌলিই জিজ্ঞেস করলো,

–   ম্যাম, আমাদেরকে যদি একটু বুঝিয়ে বলেন পুরো বিষয়টি তাহলে ভালো হত।

–   সার্টেইনলি। ব্রেস্ট ক্যান্সার ব্রেস্ট টিস্যু থেকে সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ সময় এই ক্যানসার স্তনের দুগ্ধনালীর ভিতরের আবরণের কোষ থেকে অথবা দুগ্ধ উৎপাদনকারী লোবিউল কোষ থেকে শুরু হয়। দুগ্ধনালীর ক্যান্সারকে ডাকটাল কারসিনোমা (Ductal Carcinomas), লোবিউল –এর ক্যান্সারকে লোবিউলার কারসিনোমা (Lobular Carcinomas) বলে। মূলত মহিলাদের হলেও, পুরুষদেরও এই রোগ হতে পারে।

– কিন্তু এটা কেন হয়?

ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারের কারণ

–       কী কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয় তা সঠিক ভাবে জানা যায় নি। চিকিৎসকদের মতে যখন ব্রেস্টের কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন থেকেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের সূত্রপাত হয়।

এই কোষ সুস্থ কোষের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং একসাথে জমা হতে শুরু করে।

পরবর্তীতে এই কোষগুলি পিণ্ড বা দলার (Lump or Mass) মত আকার ধারণ করে।

এই ক্যান্সার কোষ  ব্রেস্ট থেকে লিম্ফনোডের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, হরমোন, জীবনযাত্রার মান ও পরিবেশগত কারণেও এই ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

মৌলি জিজ্ঞেস করলো,
–   আসমা কি কোনোভাবে আগে জানতে পারতো যে ওর ক্যান্সার হয়েছে? মানে আগে থেকে কোনো লক্ষণ কি দেখা যায়?

ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ

ডাক্তার মেহতাব বললেন,

–   ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশ কিছু লক্ষণ আছে। যেমনঃ

·         স্তনের চাকা/পিণ্ড

·         স্তনে ব্যথা বা ঘা হওয়া

·         হঠাৎ গরম অনুভব করা

·         স্তনবৃন্ত দিয়ে রক্ত পড়া/ তরল নির্গত হওয়া

·         স্তনবৃন্তের চারপাশে কালো অংশে চুলকানি

·         অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া

·         স্তনের বোঁটার কোনো ধরনের পরিবর্তন, যেমন ভেতরে ঢুকে গেলে, অসমান বা বাঁকা হয়ে গেলে

·         বাহুমূলে পিণ্ড বা চাকা দেখা গেলে

·         স্তনের চামড়ার রং বা চেহারায় পরিবর্তন হলে

এগুলো জানা থাকলে প্রাথমিক অবস্থাতেই নির্ণয় করা যায়।

ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বৃদ্ধি হতে পারে কী কী করলে?

ডাক্তার মেহতাব বললেন,

–   বেশ কিছু নিয়ামক রয়েছে যেগুলো স্তন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। যেমনঃ

·         পরিবারে আগে কারও হয়ে থাকলে

·         বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব এবং দেরিতে মেনোপজ হলে

·         দেরিতে সন্তান গ্রহণ

·         সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো

·         খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চাইতে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকলে

·         প্রসেসড ফুড বেশি খেলে

·         অতিরিক্ত ওজন

·         দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাচ্ছেন বা হরমোনের ইনজেকশন নিলে

·         ৫০ বছর বয়সের পর এই ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়

ডাক্তার মেহতাব বলতে থাকলেন,

–   আমাদের লাইফস্টাইল, খাদ্যাভাসের মত বিষয়গুলোর দিকে একটু নজর রাখলে আর সতর্ক থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের মত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ১০০ নির্মূল করা সম্ভব।

বাসায় বসে কিভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সার পরীক্ষা করতে হবে?

ডাক্তার মেহতাব বললেন,

–   বাসায় বসে নিজে নিজে ব্রেস্ট ক্যান্সার পরীক্ষা করার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমনঃ

কবে করবেন, কী খুজবেন, কোথায় খুজবেন আর কিভাবে খুজবেন।

কবে করবেন?

প্রতিমাসে ঋতুস্রাব বন্ধ হবার পরে সপ্তাহের যেকোনো একটি দিন নির্দিষ্ট করে করতে হবে। প্রতিমাসে একই সময়ে করাটা ভালো।

কী খুজবেন?

·         স্তনে বা বগলে চাকা দেখা বা অনুভব করা

·         স্তনের ত্বক / চামড়ায় পরিবর্তন

·         খাঁজ পড়া

·         লাল হওয়া বা গরম অনুভব করা

·         স্তনের ত্বক কমলালেবুর খোসার মত মোটা হয়ে যাওয়া

·         টোল পড়া বা ছোট ছোট গর্ত দেখা দেওয়া

·         বাড়তি অংশ বের হওয়া

·         শিরা উপশিরা ফুলে যাওয়া

·         স্তনবৃন্ত ডেবে যাওয়া

·         কোনো কারণ ব্যতীত স্তনবৃন্ত থেকে তরল রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া

· স্তনের আকার/আকৃতিতে অস্বাভাবিকত্ব আসা

কোথায় খুঁজবেন?

ডাক্তার মেহতাব একটা ছবি দেখালেন। দেখিয়ে বললেন,

–   এই জায়গায় খুঁজতে হবে।

কিভাবে খুঁজবেন?

ডাক্তার তার তর্জনি, মধ্যমা আর অনামিকা, এই তিনটি আঙুল দেখিয়ে বললেন,

–   পরীক্ষা সময় এই তিনটি আঙুল ব্যবহার করতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতিঃ

প্রথম ধাপঃ খেয়াল করুন

স্তনের স্বাভাবিক অবস্থার কোন পরিবর্তন আছে কিনা লক্ষ করুন এবং উল্লেখিত ধাপ অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থানে (position) আকার-আকৃতির পরিবর্তন খেয়াল করুন।

১। হাত কোমরে রাখুন

২। হাত দুটি উপরে উঠিয়ে মাথার উপরে নিন

৩। কোমরে হাত দুটি একটু জোরে চেপে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে বুকের মাংসপেশী সমূহকে আটসাট করুন

৪। স্তনবৃন্ত আলতোভাবে চেপে দেখুন কোনো তরল জাতীয় দ্রব্য নির্গত হয় কিনা

২য় ধাপঃ স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব করুন

১। শুয়ে পড়ুন, কাঁধের নীচে একটি বালিশ রাখুন এবং হাতের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ আঙ্গুলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আলতোভাবে তারপর মাঝারি ধরনের এবং পরবর্তীতে একটু দৃঢ় চাপের মাধ্যমে স্তনের প্রতিটি অংশ অনুভব করুন।

২। স্তনের বাইরের প্রান্ত থেকে বৃত্তাকার গতিতে ঘড়ির কাটার বরাবর অথবা একটি রেখার উপর-নীচ বিবেচনা করে অথবা স্তনের বাইরের প্রান্ত থেকে অনুভব করে ভিতরের স্তনবৃন্তের (Nipple) দিকে এবং Nipple থেকে পুনরায় বাইরের প্রান্ত পর্যন্ত অনুভব করুন।

চিকিৎসাঃ

সার্জারিঃ মূলত দুই প্রকার সার্জারি করা হয়, যা টিউমারের আকার, আকৃতি ও বিস্তৃতির ওপর নির্ভর করে:

• টোটাল মাস্টেকটমি (স্তন অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলা)

• ব্রেস্ট কনজারভিং সার্জারি (শুধু টিউমারটুকু কেটে ফেলা)

রেডিওথেরাপি: কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির পর রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়, যাতে শরীর থেকে ক্যানসার আরও ভালোভাবে নির্মূল করা যায়।

কেমোথেরাপি/এন্ডোক্রাইন থেরাপি/অ্যান্টি-এইচইআর২ থেরাপি: টিউমারের ওপর ভিত্তি করে আপনার ক্যানসার বিশেষজ্ঞ উল্লেখিত এক বা একাধিক চিকিৎসা আপনার জন্য নির্ধারণ করতে পারেন।

আপনার চিকিৎসক আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং সংশয় দূর করতে সাহায্য করবেন। এ জন্য কোনো ধরনের সংশয় থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

হেলথ টিপস

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ১০০ নির্মূল করা সম্ভব। কিছু কিছু বিষয়ের দিকে আমাদেরকে সেজন্য সর্তকতার সাথে লক্ষ্য করতে হবে।

         নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন।

·         ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।

·         শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ পান (Breast-feeding) করালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

·         পারিবারিক ইতিহাস থাকলে আগে থেকে সচেতন হোন এবং নিজে নিজে পরীক্ষা করার পাশাপাশি ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

·         স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন এবং মদ্যপান পরিহার করুন।

এত লম্বা সময় ধরে এত বিষয়ে কথা বলার পর ডাক্তার মেহতাব আসমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

–   আমি তোমার অবস্থাটি বুঝতে পারছি বাবা। তোমার সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে হয়ত। আমরা চেষ্টা করবো কেমোথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সার নির্মূল করার। তবে আমাদের আরও কিছু পরীক্ষা করতে হবে নিশ্চিত হবার জন্য। আমি শুধু বলবো হতাশ হয়ো না। এ সময়ে শক্ত থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এরপরে আরও কিছু সময় কথাবার্তার পরে সেদিনের মত আসমা আর মৌলি বিদায় নিয়ে ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসে।

(তথ্যসূত্রঃ রোশ এবং প্রথম আলো)